কংগ্রেসের দুর্গে সাফাই অভিযান! দেশের উপনির্বাচনে কোন ম্যাজিকে একা লড়ে ইতিহাস গড়ল বিজেপি?

দেশের ৪টি রাজ্যে ১টি লোকসভা এবং ৫টি বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগণনা ঘিরে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তাপ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাথমিক ট্রেন্ড এবং প্রাপ্ত ভোটের হিসেব বলছে, এই উপনির্বাচনের ফলাফলে এক অভাবনীয় ও বিরাট রাজনৈতিক রদবদল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে যেখানে গেরুয়া শিবিরের দাপট অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে, সেখানে জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের ঝুলি কার্যত সম্পূর্ণ শূন্য। উলটো দিকে, দক্ষিণের রাজনীতিতে অভিনেতা বিজয়ের নতুন দল এবং আঞ্চলিক শাসক দলগুলির চমকপ্রদ পারফরম্যান্স নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অসমের হাই-প্রোফাইল নগাঁও লোকসভা আসনে বিজেপি এক বিশাল ও ঐতিহাসিক জয়ের পথে এগোচ্ছে। অথচ মাত্র দু’বছর আগের গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রটি জিতেছিল কংগ্রেস। বর্তমান উপনির্বাচনে সেই কংগ্রেস পার্টির ভরাডুবি হয়েছে এবং তারা সোজা তিন নম্বরে নেমে গেছে। বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী, বিজেপি প্রার্থী ৮০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নিজের জয় কার্যত পাকা করে ফেলেছেন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের দুটি মর্যাদাপূর্ণ কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনেও পদ্ম শিবিরের জয়জয়কার অব্যাহত রয়েছে। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ ৮৫ হাজারেরও বেশি ভোটে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। পাশাপাশি, রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনেও বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার প্রায় ৩৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের পিছনে ফেলে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছেন।

দেশের অন্য প্রান্তের রাজ্যগুলিতেও চিত্রটা বেশ রোমাঞ্চকর। দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুতে জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়ের নবগঠিত রাজনৈতিক দল ‘টিভিকে’ (TVK) জোড়া আসনে দুর্দান্ত জয়ের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দলটির প্রার্থীরা মাদুরানটাকাম কেন্দ্রে ৬ হাজার ভোটে এবং ধারাপুরাম আসনে ৭ হাজার ভোটে এগিয়ে থেকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির থাট্টাছাভেদি কেন্দ্রে শাসকদল এআইএনআরসি (AINRC)-র প্রার্থী অশোক আনন্দ তাঁর নিকটতম কংগ্রেস প্রার্থীকে ৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে নিশ্চিত জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। সার্বিক এই উপনির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কংগ্রেস দল পুরোপুরি কোণঠাসা ও প্রান্তিক হয়ে পড়েছে। উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিজেপি তাদের হার না মানা আধিপত্য বজায় রেখেছে, আর দক্ষিণের ময়দানে অভিনেতা বিজয়ের নতুন দলের এন্ট্রি ও আঞ্চলিক শক্তিগুলির উত্থান আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।