খাদে উল্টে গেল যাত্রীবাহী বাস! হিমাচলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৯ বছরের যুবকের মৃত্যু ঘিরে শোকের ছায়া

শুক্রবার সকালে এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল হিমাচল প্রদেশের শিমলা জেলা। হিমাচল রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (এইচআরটিসি)-এর একটি যাত্রীবাহী বাস হঠাৎ চালকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গভীর খাদে পড়ে যাওয়ায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সানেই থেকে রামপুরগামী ওই যাত্রীবাহী বাসটিতে সেই সময় প্রায় ২০ জন যাত্রী সওয়ার ছিলেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ১৯ বছরের এক তরুণ নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্য দুই জন যাত্রী গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাকেন্দ্রের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকাল ঠিক ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে। সানেই এলাকা থেকে নিয়মিত রুটের যাত্রীদের নিয়ে বাসটি রামপুরের দিকে রওনা দিয়েছিল। পাহাড়ি চড়াই-উতরাই রাস্তায় হঠাৎ করেই চালক বাসটির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, যার জেরে গাড়িটি সোজা প্রায় কয়েকশো ফুট গভীর খাদে গিয়ে আছড়ে পড়ে। বাস পড়ার বিকট শব্দ এবং আর্তনাদ শুনে মুহূর্তের মধ্যে আশেপাশের করালি ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের শত শত বাসিন্দা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে নিহত হওয়া ওই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। রামপুরের করালি গ্রামের নিবাসী সুরঞ্জনের ১৯ বছরের তরুণ পুত্র বংশ নেগি এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, খাদে পড়ে বাসটির সামনের অংশ ও কাঠামো সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়, যা থেকে রক্ষা পাননি দুর্ভাগ্যজনকভাবে বংশ নেগি। তরতাজা এক যুবকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং মৃতার পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েছে।

এদিকে পুলিশ ও সরকারি অ্যাম্বুলেন্স আসার বিন্দুমাত্র অপেক্ষা না করে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। তাঁরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত খাদে নেমে উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ শুরু করে দেন। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে তাঁদের দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় খানেরির মহাত্মা গান্ধী মেডিকেল সার্ভিসেস কমপ্লেক্সে (এমজিএমএসসি)। খানেরি হাসপাতাল প্রশাসন আগে থেকেই খবর পেয়ে জরুরি ভিত্তিতে একটি বিশেষ মেডিকেল টিমকে প্রস্তুত রেখেছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত আহত যাত্রীদের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চিকিৎসা শুরু করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করেছে। প্রাথমিক অনুমান, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা পাহাড়ি রাস্তায় অতিরিক্ত গতির ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তবে প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।