মোদীর মন্ত্রে বিরাট রেকর্ড! ভোটের ফল প্রকাশের আগেই জয়ের আনন্দে আত্মহারা বিজেপি প্রার্থী

রাজ্যজুড়ে বহুল আলোচিত নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ভোটগণনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে। প্রচারের শেষ দিনে নন্দীগ্রামবাসীর কাছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিশেষ আবদার ছিল, ২০১৬ সালে তাঁর নিজের ৮২ হাজার ভোটের জয়ের ব্যবধান যেন এবারের উপনির্বাচনে ছাপিয়ে যায়। নির্বাচন কমিশন সূত্রের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ১১ রাউন্ডের গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৯১ হাজারের বেশি ভোটে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। অর্থাৎ, ইতিমধ্যেই অতীতের সমস্ত জয়ের ব্যবধানের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন তিনি। তবে এই বিরাট ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার জেরে গণনাকেন্দ্রে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভোটে ব্যাপক কারচুপির বেনিয়মের অভিযোগ তুলে মাঝপথেই গণনাকেন্দ্র ছেড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বেরিয়ে যান আইএসএফ প্রার্থী সবেমিরাজ আলী খান।

চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, গণনাকেন্দ্রের বাইরে ইতিমধ্যেই জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজয়ী মনোভাব স্পষ্ট করে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ জানান, ভোটের প্রথম দিন থেকেই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল জয়ের মার্জিন আগের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়া। গত এক মাস ধরে দলের প্রতিটি কর্মী ও নেতৃত্ব এই লক্ষ্য পূরণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে পরিশ্রম করেছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশ যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উন্নয়নের বার্তায় সাড়া দিয়ে পদ্মশিবিরে ভোট দিয়েছেন, সেকথাও ফলাও করে উল্লেখ করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের পাশাপাশি নজরকাড়া ফলাফল দেখা যাচ্ছে রেজিনগর উপনির্বাচনেও। নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রেজিনগরে পঞ্চম রাউন্ডের গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে মোট ৪৮ হাজার ১০১টি ভোট ঝুলিতে পুেড়েছেন। অন্যদিকে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রাপ্ত ভোট দাঁড়িয়েছে ১২,৮০০-তে এবং কংগ্রেস প্রার্থী সেখানে মাত্র ২,৩৮০টি ভোট পেয়ে ধুঁকছে। রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক ও কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর কড়া নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে বর্তমানে উভয় কেন্দ্রেরই ভোটগণনা শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপনির্বাচনের ফল আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক ডায়েরির পটপরিবর্তনে এক অত্যন্ত বড় ও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে চলেছে।