‘প্রমাণ ছাড়াই নির্বাচন কমিশনকে চোর বলা হচ্ছে!’ এবার খোলা চিঠিতে গর্জে উঠলেন দেশের ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতি

কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই দেশের স্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে ক্রমাগত কাদা ছোড়াছুড়ি করা হচ্ছে। ‘ভোট চুরি’র কল্পিত গল্প সাজিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কালিমালিপ্ত করার এই সুপরিকল্পিত চক্রান্তের বিরুদ্ধে এবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ময়দানে নামলেন দেশের ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতি এবং প্রবীণ প্রাক্তন প্রশাসনিক আধিকারিক বা আমলারা।

সংস্থাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা এবং দেশের গণতন্ত্রের মর্যাদা বাঁচাতে রাজনৈতিক দল, সংবাদ মাধ্যম এবং সাধারণ নাগরিকের উদ্দেশ্যে যৌথভাবে এক বিশেষ খোলা চিঠি দিয়েছেন তাঁরা।

“রায় বিপক্ষে গেলেই বিচার বিভাগকে নিশানা!”

৭ অক্টোবর প্রকাশিত ওই চিঠিতে স্বাক্ষরকারী প্রাক্তন বিচারপতি ও আমলারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকেই দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর স্বার্থে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন।

চিঠিতে অত্যন্ত কড়া ভাষায় পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে যে, যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি চিহ্নিত করে গঠনমূলক সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু আদালত বা বিচারকক্ষ এড়িয়ে রাস্তাঘাট এবং প্রেস কনফারেন্সে সাংবিধানিক আধিকারিকদের ‘চোর’, ‘পুতুল’ বা ‘বিক্রি হয়ে যাওয়া’ বলে সম্বোধন করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। কিছু স্বার্থান্বেষী অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী আদালতের বিচারিক রায় নিজেদের অনুকূলে না এলেই কদর্যভাবে বিচার বিভাগকে নিশানা করা শুরু করে, যা আমজনতার মনে বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা তৈরি করছে।

PMC

ইভিএম ও ‘ভোট চুরি’র জিগির নিয়ে চরম প্রশ্ন

ভোট চুরির লাগাতার অভিযোগের পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিঠিতে প্রবীণ বিচারকরা লিখেছেন, সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলা হলেও নির্বাচন কমিশন যখন নথিপত্র বা আনুষ্ঠানিক হলফনামা দাবি করে, তখন কিন্তু কোনো পক্ষই তা জমা দেয় না। নির্বাচনে জয়ী হলে চুপ থাকা, অথচ পরাজয় হলেই ইভিএম (EVM)-কে কাঠগড়ায় তোলার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তাঁরা।

এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া পুরোপুরি সাংবিধানিক

ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের চালু করা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়েও সোচ্চার হয়েছেন চিঠির স্বাক্ষরকারীরা। তাঁরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে যেকোনো সময় ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করার সম্পূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

PMC

মৃত ব্যক্তি, ভূয়া নাম বাদ দেওয়া এবং গত দু’দশকে কর্মসূত্রে শহরমুখী হওয়া লক্ষ লক্ষ যোগ্য নাগরিককে সঠিক ভোটাধিকার দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই কাজ করা হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টও ইতিমধ্যেই এই এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতাকে সিলমোহর দিয়েছে।

PMC

গণতন্ত্র রক্ষায় খোলা চিঠির মূল ৪ বার্তা

OpenAI Help Center
  • রাজনীতির লড়াই হোক ভোটের ময়দানে: নির্বাচন কমিশনকে কাদা না ছুড়ে গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে ভোটে লড়ুন। অভিযোগ থাকলে আদালতে আইনি তথ্যপ্রমাণ জমা দিন।

  • সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব: চটকদার প্রচারের উদ্দেশ্যে কোনো ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা ধ্বংস করবেন না। খবরের সততা যাচাই করা জরুরি।

    OpenAI Help Center
  • কমিশনের ভূমিকা: চাপ ও বিতর্কের মধ্যেও নির্বাচন কমিশনকে চরম স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    PMC
  • আমজনতার সচেতনতা: ভোটারদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, “আপনার একটি ভোট অত্যন্ত মূল্যবান। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো সরকারের একচ্ছত্র সম্পত্তি নয়, এগুলো ভারতের কোটি কোটি মানুষের।”