আমেরিকার ‘মিড-টার্ম’ ঘিরে ধুন্ধুমার! রেকর্ড শুল্ক বসিয়েও কেন অনড় ট্রাম্প?

আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘মিড-টার্ম’ বা অন্তর্বর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্টের মেয়াদের ঠিক দুই বছরের মাথায় আয়োজিত এই নির্বাচন কেবল আমেরিকার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে না, বরং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতির প্রতি জনগণের সমর্থনের বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের কঠোর শুল্ক নীতি ঘিরে দেশের ভেতরে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন ভোটারদের একাংশের মধ্যে বাণিজ্য নীতি নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৩৪ শতাংশ মানুষ মনে করছেন ট্রাম্প অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়ে সীমা অতিক্রম করেছেন, যেখানে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই হার ছিল প্রায় ৫৮ শতাংশ। জিনিসপত্রের চড়া দাম, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের প্রবল সমালোচনা সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের বিশ্বাস, বড় ধরনের আর্থিক মন্দার পর থেকে মার্কিন বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করাই আমেরিকার জন্য সবচেয়ে লাভজনক পদক্ষেপ। ভোটারদের মতে, ট্রাম্পের কাছে ‘শুল্ক’ বা ট্যারিফ শব্দটি যেন অভিধানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় শব্দ। আইনি বাধা এবং আদালতের আদেশের কারণে ট্রাম্পের শুল্ক কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। ইতিপূর্বে ১৯৭৭ সালের অর্থনৈতিক জরুরি ক্ষমতা বিষয়ক আইনের আওতায় বেশ কয়েকটি দেশের ওপর ‘পারস্পরিক’ শুল্ক আরোপ করেছিলেন তিনি, যা সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়। এরপর ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর দ্বারস্থ হন। এই ধারায় যেসব দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যিক পরিবেশ বা শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, তাদের ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, কানাডা ও মেক্সিকো সহ প্রায় ৬০টি দেশের আমদানির ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের লড়াইয়ে এই অর্থনৈতিক টানাপোড়েনই প্রধান ইস্যু হতে চলেছে।