হাজার টাকার রুম ফ্রেশনার ফেল! হেঁশেলের গা গোলানো আঁশটে গন্ধ তাড়ানোর ঘরোয়া টোটকা

রান্নাঘর হলো বাড়ির এমন একটি জায়গা, যেখানে সারা দিনই কোনো না কোনো কাজ চলতে থাকে। সকালের চা থেকে শুরু করে দুপুরের মেজাজি রান্না, গ্যাস যেন বন্ধই হতে চায় না। কিন্তু মাছ-মাংসের প্রিপারেশন, পেঁয়াজ-রসুন কাটা কিংবা বাঁধাকপি-মুলো সেদ্ধ করার পর পুরো হেঁশেলে তৈরি হয় এক অসহ্য ও গা গোলানো আঁশটে গন্ধ। এই দুর্গন্ধ তাড়াতে অনেকেই বাজার থেকে হাজার টাকার রুম ফ্রেশনার কিনে এন ফ্যান চালান, কিন্তু তাতেও অনেক সময় কাজ হয় না। অথচ পকেটের কড়াকড়ি বজায় রেখেই কয়েকটি সহজ ঘরোয়া উপাদানে রান্নাঘর রাখা যায় একবারে সুবাসিত ও তাজা।

প্রথমেই আসা যাক লেবুর কথায়। পাতিলেবুর ভেজিটেবল অ্যাসিড আঁশটে গন্ধ কাটাতে ওস্তাদ। কয়েক টুকরো পাতিলেবু ওভেনে হালকা বেক করে নিয়ে ওভেনের দরজা খুলে রেখে দিলে পুরো রান্নাঘরের স্যাঁতসেতে ভাব উধাও হয়ে যায়। এছাড়া বাঁধাকপি বা মুলো সেদ্ধ করার সময় জলে এক টুকরো লেবু ফেলে দিলে বাজে গন্ধ একেবারেই তৈরি হয় না।

দ্বিতীয় চমৎকার টোটকাটি হলো হেঁশেলের মশলা। একটি পাত্রে অল্প জলে এলাচ, দারচিনি ও তেজপাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে ফুটন্ত জলের আঁচ কমিয়ে দিন। সুগন্ধি ভাপ নিমেষেই তাড়িয়ে দেবে যেকোনো জেদি দুর্গন্ধ।

তৃতীয়ত, ডাস্টবিন ও সিঙ্কের পরিচর্যা অতি জরুরি। শুকনো ও ভেজা ময়লা আলাদা রাখুন এবং সহজে পচনশীল জিনিস প্রতিদিন ফেলুন। ডাস্টবিন ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিচে কিছুটা বোরক্স পাউডার ছড়িয়ে গার্বেজ ব্যাগ ব্যবহার করুন। রান্না শেষে সিঙ্কে নোংরা বাসন ফেলে না রেখে ধুয়ে ফেলা এবং সিঙ্কের মুখে বেকিং সোডা ও ভিনেগারের মিশ্রণ ঢেলে আধঘণ্টা পর জল ঢাললে পাইপের দুর্গন্ধ গায়েব হয়ে যায়। বাসন মাজার স্পঞ্জ প্রতি সপ্তাহে বদলানো এবং চিমনীর তেল রোজ মুছলেই রান্নাঘর থাকবে সর্বদা ঝকঝকে ও দুর্গন্ধমুক্ত।