‘ভোট চুরি করে অধিকার কাড়ছে সরকার!’ ব্যাঙ্গালুরুতে প্রকাশ রাজ ও ধ্রুব রাঠির হুঙ্কারে কাঁপছে রাজপথ!

ভোটার তালিকার বিশেষ তীব্র পুনর্বিন্যাস (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠল কর্নাটকের রাজধানী ব্যাঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকে আয়োজিত এই মেগা বিক্ষোভে অংশ নিতে প্রখ্যাত অভিনেতা তথা সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের বিভিন্ন ভিডিও বয়ান বা টেস্টমোনিয়াল প্রদর্শন করা হয়। এই প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি ‘জন আদালত’ (পিউপিলস ট্রাইব্যুনাল)-এরও আয়োজন করা হয়, যেখানে কর্নাটকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এই বিক্ষোভে প্রকাশ রাজ ছাড়াও CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, জেএনইউয়ের ছাত্রনেতা আইশি ঘোষ এবং নেহা বোরাসহ দেশের একাধিক বিশিষ্ট নাগরিক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বেআইনিভাবে বাদ দেওয়া সমস্ত নাম অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে এবং এসআইআর-এর আগের পুরনো ভোটার তালিকা বহাল রাখতে হবে। পাশাপাশি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় চরম জালিয়াতির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, “নরেন্দ্র মোদির হাতে সরকারি ক্ষমতা থাকতে পারে, কিন্তু রাজপথ আমাদের দখলে। লোকসভা নির্বাচনে ২ শতাংশের ব্যবধান ঢাকতে ওরা আজ দেশজুড়ে ৩০ কোটি মানুষের ভোট তালিকা থেকে মুছে দিচ্ছে। আমরা আমাদের হারানো ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্র রাজপথ থেকেই পুনরুদ্ধার করব।”
অভিনেতা প্রকাশ রাজ সরকারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, “আদিবাসী, দরিদ্র, মুসলমান এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে ভোট দেওয়া থেকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আপনাদের পক্ষে তো আর সরাসর মেরে ফেলা সম্ভব নয়, তাই আপনারা অত্যন্ত সুকৌশলে তাঁদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার অর্থাৎ ভোটটুকুই কেড়ে নিয়েছেন। আমাদের এই লড়াই কেবল জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জন্য নয়, বরং এই বৈষম্যমূলক এসআইআর ব্যবস্থা চিরতরে বাতিল করতে হবে। এবং এরপর জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে কড়া আইনি তদন্ত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিবিদরা পাঁচ বছর পর আমাদের কাছে ভোট চাইতে এসে হাত জোড় করে ভিক্ষা করেন, আর আজ আমাদের নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটের জন্য তাঁদের দরজায় দরজায় ঘুরতে হচ্ছে।”
এদিকে CJP-র কর্নাটক শাখা এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ‘মহিলা সংহতি মার্চ’ ও প্রতীকাংশ হিসেবে অভিনব ‘চপ্পল প্রোটেস্ট’-এর ডাক দিয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিবাদ শেষে এই চপ্পলগুলি দেশের অভাবী ও দরিদ্র মানুষদের মাঝে দান করে দেওয়া হবে। সামগ্রಿಕভাবে ব্যাঙ্গালুরুর এই রাজনৈতিক আন্দোলন দেশজুড়ে এক নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে।