জলের বোতলের আড়ালে কোটি টাকার বিদেশি মদ! বীরভূমে আবগারি দফতরের হানায় চক্ষু চড়কগাছ

খাস বীরভূমের মাটিতে জলের প্ল্যান্টের আড়ালে রমরমিয়ে চলছিল কোটি কোটি টাকার নকল বিদেশি মদ তৈরির এক বিশাল কারখানা। বুধবার বিকেলে আবগারি দফতরের এক আচমকা অভিযানে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো হাড় হিম হয়ে গেছে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে খোদ প্রশাসনিক আধিকারিকদের। পানীয় জলের ব্যবসা করার নাম করে কীভাবে দীর্ঘ দিন ধরে প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে এই বেআইনি কারবার চালানো হচ্ছিল, তা নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল।
ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে, বীরভূমের মুরারই থানার কান্ধা গ্রামের অদূরে পলশা মোড় থেকে হরিশপুর যাওয়ার রাস্তার ওপর সম্পূর্ণ ফাঁকা জায়গায় এই কারখানাটি গড়ে উঠেছিল। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জায়গাটি মইজুদ্দিন শেখ নামের এক ব্যক্তির ছিল। তাঁর আগের একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া হাস্কিং মিলের জায়গাটি মাসিক ৩০ হাজার টাকার ভাড়ায় কলকাতার এক ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বাইরে থেকে এলাকাবাসী এবং আশপাশের মানুষ জানতেন যে সেখানে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার বা পানীয় জল তৈরির প্ল্যান্ট চলছে। কিন্তু কারখানার ভেতরে যে অন্য কিছু রন্ধ্রে রন্ধ্রে তৈরি হচ্ছে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ।
স্থানীয়দের মতে, প্ল্যান্টটি বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকত এবং শুধুমাত্র রাতের অন্ধকারে কিছু অপরিচিত মানুষের আনাগোনা দেখা যেত। তবে বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না। গোপন সূত্রে এই অবৈধ কারবারের খবর পেয়ে বুধবার বিকেলে আবগারি দফতরের একটি বিশাল বাহিনী আচমকাই সেই প্ল্যান্টে হানা দেয়। ভিতরে প্রবেশ করতেই অফিসারদের চোখ কপালে ওঠে। পরিচ্ছন্ন জল ভরার আধুনিক যন্ত্রপাতির পরিবর্তে সেখানে দেখতে পাওয়া যায় পেটির পর পেটি বিদেশি মদের বোতল, নকল স্টিকার এবং সিল করার বহুমূল্য বিদেশি প্রযুক্তিযুক্ত যন্ত্রাংশ।
সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই ম্যারাথন অভিযানে মোট ৮৪৬ পেটি (প্রতি পেটিতে ৪২ পাউচ বা বোতল) নকল বিদেশি মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৮২ লক্ষ টাকারও বেশি বলে আবগারি দফতর সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। মদ তৈরির পাশাপাশি বোতলে ভিন রাজ্যের ও আন্তর্জাতিক মার্কার হুবহু স্টিকার সেঁটে সেগুলোকে নিখুঁতভাবে আসল মদের মতো করে সাজিয়ে বাজারে সাপ্লাই দেওয়া হতো। এই ঘটনার পর সুরাপ্রেমী মহলেও ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে, কারণ তারা যে মদ এতদিন আসল বলে কিনে খাচ্ছিলেন, তার গুণগত মান ও উৎস নিয়ে গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। কারখানার জমির মালিক থেকে শুরু করে এই চক্রের আসল মাথা কে বা কারা এবং এর নেপথ্যে কোন বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে আবগারি দফতর।