ইএমআই বাড়বে না কমবে? সুদের হার নিয়ে আরবিআই গভর্নরের বড় ঘোষণা, জানুন কী হবে আপনার লোনের কিস্তি

চার বছর দীর্ঘ বিরতির পর দেশের সাধারণ মানুষ ও ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় ধাক্কা দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। চটজলদি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বা সিকি শতাংশ বাড়ানোর ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। এর ফলে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে সরাসরি ৫.৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শেষবার সুদের হার বাড়ানোর ঘটনা ঘটেছিল ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) তিন দিনের দীর্ঘ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এ দিন সকালে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। তিনি জানান, কমিটির ছ’জন সদস্যই একযোগে সুদ বাড়ানোর পক্ষে নিজেদের মতামত দিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ সামাল দিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

রেপো রেট মূলত সেই নির্দিষ্ট সুদের হার, যে হারে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক দেশের বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে স্বল্পমেয়াদির জন্য ঋণ দিয়ে থাকে। ফলে রেপো রেট বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাঙ্কগুলির তহবিল সংগ্রহের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। আর তার সরাসরি প্রভাব এসে পড়ে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর। ফ্লোটিং সুদের হারের আওতাধীন হোম লোন, কার লোন কিংবা যেকোনো ধরনের ব্যক্তিগত ঋণের মাসিক কিস্তি বা ইএমআই এখন অনেকটাই বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ব্যাঙ্কের এই বর্ধিত সুদের কোপ গ্রাহকের পকেট পর্যন্ত পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে।

শুধু সুদের হার বাড়ানোই নয়, আর্থিক নীতির ক্ষেত্রেও বড়সড় বদল এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। এখন থেকে ‘ক্যালিব্রেটেড টাইটেনিং’ বা ধাপে ধাপে আর্থিক কড়াকড়ির নীতি গ্রহণ করবে আরবিআই। কমিটির ছ’জন সদস্যের মধ্যে চারজন এই সুনির্দিষ্ট নীতির পক্ষে সওয়াল করেছেন। মূল্যবৃদ্ধির লাগামহীন অবস্থাই যে এই সিদ্ধান্তের মূল চালিকাশক্তি, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন গভর্নর। আগস্ট মাসে দেশের খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৮২ শতাংশে, যা জুলাই মাসে ছিল ৪.৪৫ শতাংশ। অথচ আরবিআই-এর নির্ধারিত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা হল মাত্র ৪ শতাংশ। একটানা তিন মাস এই নির্দিষ্ট সীমার ওপরেই অবস্থান করছে মূল্যবৃদ্ধি। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি পার করায় আগামী দিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও চড়ার আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে গড় মূল্যবৃদ্ধির হার ৫.২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

তবে সামগ্রিক অর্থনীতির বৃদ্ধি বা জিডিপি নিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। চলতি অর্থবর্ষে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়ে ৭.১ শতাংশ করা হয়েছে। এদিকে গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, অদূর ভবিষ্যতে ঋণের সুদের হার কমার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ, আগামী দিনে ইএমআই বা ঋণের বোঝা লাঘব হওয়ার কোনো আশাই দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ২০২৫ সালের পুরো সময়জুড়ে মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমিয়েছিল আরবিআই এবং বিগত চারটি দ্বিমাসিক বৈঠকে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই স্থির রাখা হয়েছিল। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে অবশেষে সেই অবস্থান থেকে ইউ-টার্ন নিল দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক।