সকাল থেকেই ভোটের বাজারে ধুন্ধুমার! রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে কড়া নিরাপত্তায় শুরু হল দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলার মাটিতে আরও এক হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক লড়াই। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে একযোগে শুরু হয়েছে বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব। পূর্বঘোষিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ভোটাভুটি একটানা চলবে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভোটদান শুরুর ঠিক আগে নির্ধারিত নিয়ম মেনে সমস্ত বুথেই মক-পোল (Mock Poll) প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুই কেন্দ্রেই নিরাপত্তার কড়া বেষ্টনী তৈরি করতে মোট ৭১ কোম্পানি আধা সামরিক বা কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রেজিনগরে মোতায়েন রয়েছে ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং অন্যদিকে নন্দীগ্রামে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে ৩৭ কোম্পানি সেন্ট্রাল ফোর্স। কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের তরফ থেকেও ব্যাপক নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। হিসেব অনুযায়ী, এক মাত্র নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে ৭০০ জন রাজ্য পুলিশ কর্মী। অন্যদিকে রেজিনগর কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন ৮১৯ জন রাজ্য পুলিশ সদস্য। সবমিলিয়ে, বুথের অন্দরে ও বাইরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে দুই উপনির্বাচন কেন্দ্রকে।
ভোটের সকালেই দুই কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, কোনো রকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। কঠোর হাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে এবং সাধারণ ভোটাররা যাতে কোনো রকম ভয়ভীতি ছাড়া লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য বুথের অন্দরে ও বাইরে সজাগ রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিক্ষিপ্ত কিছু রাজনৈতিক উত্তেজনার বাদানুবাদ বাদ দিলে সকাল থেকেই বুথগুলির বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ার মতো। উপনির্বাচনের এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দল জয় ছিনিয়ে নেয় এবং ভোটাররা কার পক্ষে রায় দেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।