সংসদীয় কমিটিতে বড় ধাক্কা কালীঘাটের! স্পিকারকে কড়া চিঠি অভিষেক-ডেরেকের, তুঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত

সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটি বা স্থায়ী কমিটিগুলির সাম্প্রতিক পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র রাজনৈতিক সোরগোল শুরু হয়েছে। শনিবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একাধিক সংসদীয় প্যানেলের মাথায় রদবদল করা হয়। এই পরিবর্তনের জেরে খনি ও ইস্পাত প্যানেলের চেয়ারপার্সন হয়েছেন অনুরাগ ঠাকুর, অর্থ বিষয়ক প্যানেলে ভর্তহরি মেহতাব এবং জলসম্পদ প্যানেলে রাজীবপ্রতাপ রুডি। তবে এই পরিবর্তনের ফলে সংসদীয় স্তরে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ল ঘাসফুল শিবির তথা কালীঘাট।
তৃণমূল সূত্রে খবর, বাণিজ্য বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দলঘনিষ্ঠ সাংসদ দোলা সেনকে। তাঁর জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে বিজেপির সুধাংশু ত্রিবেদীকে। অন্যদিকে, রাসায়নিক ও সার বিষয়ক সংসদীয় প্যানেলের চেয়ারপার্সন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কীর্তি আজাদকে। তাঁর পরিবর্তে ওই পদে বসানো হয়েছে একসময়ে তৃণমূলে থাকা ও বর্তমানে এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। দলবদলের পর এই ধরনের পদ প্রাপ্তির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
এই রদবদলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমেছে কালীঘাট শিবির। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে কড়া ভাষায় চিঠি পাঠিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগেও দলবদল করা ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন অভিষেক। তাঁর মূল প্রশ্ন, দলবদলের পরেও কোন যুক্তিতে ওই সাংসদরা এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ করছেন? অবিলম্বে এই নতুন নিয়োগ বাতিল করে পুরনো মনোনীত সদস্যদের স্বপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, রাজ্যসভার স্পিকার তথা চেয়ারম্যানকে কড়া ভাষায় চিঠি দিয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। চিঠিতে ডেরেক স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেস তৃতীয় বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও কেন তাদের নিয়মিত বঞ্চিত করা হচ্ছে? এই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি চিঠিতে আরও চারটি সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট তুলে ধরে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে, আসন্ন সংসদীয় অধিবেশনে এই কমিটি পুনর্গঠন ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত যে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে, তা বলাই বাহুল্য।