৭০০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে আছড়ে পড়ল মিসাইল! উত্তর কোরিয়ার ধমকে আকাশ থেকে পড়ল আমেরিকা ও জাপান

দক্ষিণ কোরিিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ফের একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া। শনিবার সকালে দেশটির পূর্ব উপকূলীয় ওয়ানসান এলাকা থেকে এই মিসাইলটি ছোড়া হয় বলে নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী। পিয়ংইয়ংয়ের এই আকস্মিক পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক মহলে ফের একবার গভীর উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উৎক্ষেপণের পর মিসাইলটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে সমুদ্রের নির্দিষ্ট সীমানায় গিয়ে আছড়ে পড়ে। এই মিসাইলটির উড়ানের গতিপথ, উচ্চতা এবং অন্যান্য কৌশলগত দিকগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করতে দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনী যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং পরবর্তী যেকোনো মিসাইল উৎক্ষেপণ রুখতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে, জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা গেছে যে, মিসাইলটি জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন বা ইইজেড (EEZ)-এর বাইরে গিয়ে পতিত হয়েছে। যার ফলে জাপানের মূল জলসীমায় সরাসরি কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রভাব পড়েনি। তবে ঘটনাটির পর দক্ষিণ কোরিয়া, আমেরিকা এবং জাপান যৌথভাবে পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মার্কিন প্যাসিফিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা গোটা পরিস্থিতির ওপর পূর্ণ নজর রাখছে এবং আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে মার্কিন সেনা বা মিত্র দেশগুলির ভূখণ্ডে তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক হুমকি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

তবে সিওলের জাতীয় নিরাপত্তা দফতর উত্তর কোরিয়ার এই উসকানিমূলক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার স্পষ্ট দাবি, আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সমস্ত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেই উত্তর কোরিয়া একের পর এক এই ধরনের বেপরোয়া মিসাইল পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে, যা কোরীয় উপদ্বীপের শান্তি ও নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় এক রহস্যজনক ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার জন্য সরাসরি পিয়ংইয়ংকে দায়ী করেছিল সিওল, যদিও উত্তর কোরিয়া সেই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে। উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার লাগাতার সামরিক পরিকাঠামো নির্মাণ এবং একের পর এক মিসাইল পরীক্ষার ফলস্বরূপ দুই দেশের মধ্যে চলা স্নায়ুযুদ্ধ এখন চরম আকার ধারণ করেছে।