রক্তাক্ত অবস্থাতেও হার মানেননি! ককপিটে ছুরি হামলার মুখে দাঁড়িয়ে কীভাবে অলৌকিক কায়দায় বিমান রক্ষা করলেন ক্যাপ্টেন স্মিত?

দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দেওয়া ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে এক অবিশ্বাস্য ও রোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী থাকল বিশ্ব। মাঝআকাশে ভয়াবহ ছুরি হামলার শিকার হন ভারতীয় সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। কিন্তু মৃত্যুর মুখ থেকেও চরম সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির জোরে তিনি রক্ষা করেন বিমানে থাকা প্রায় ১৭০ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের প্রাণ। এই দুঃসাহসিক কাজের জন্য তাঁকে স্যালুট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
ঘটনার দিন দুবাই থেকে উড়ে যাওয়া ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটির ককপিটেই শুরু হয় ভয়ঙ্কর কাণ্ড। অভিযোগ, বিমানেরই অপর এক কো-পাইলট হঠাৎ করেই ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের উপর ছুরি নিয়ে আক্রমণ চালান। অতর্কিত এই হামলায় গুরুতর জখম হন স্মিত। শরীর থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করলেও তিনি মুহূর্তের জন্যেও মনোবল হারাননি। চরম রক্তক্ষয়ী ও জটিল পরিস্থিতিতেও তিনি মাথা ঠান্ডা রেখে ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। তাঁর এই সঠিক সময়ে নেওয়া পদক্ষেপে বিমানের অন্যান্য ক্রু সদস্য ও যাত্রীরা তৎক্ষণাৎ ককপিটে প্রবেশ করে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এরপরেই বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে স্মিতকে তাবুকের হাসপাতালেই ভর্তি করা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবু ধাবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে ‘হিরো’ বলে সম্বোধন করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, স্মিতের এই দৃঢ়তা ও উপস্থিতি বুদ্ধি না থাকলে অনেক বড় বিপদের সম্মুখীন হতে পারত গোটা বিশ্ব। প্রধানমন্ত্রী স্মিতের বৃদ্ধ বাবা-মা এবং স্ত্রীর সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
দিল্লিতে ইউনিয়ন পাবলিক Service কমিশনের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী যেমনটি বলেছেন, একজন ভারতীয় নাগরিক আজ ৯/১১-এর মতো একটি বিশাল ট্র্যাজেডি রুখে দিয়েছেন।” এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও গভীর ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসবাদী যোগ কিংবা পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি প্রশাসন।