‘ভ্যানিশ কুমার’ বলতেই আগুনে মেজাজ মমতার!, কমিশন ও ইভিএম নিয়ে তুলকালাম বার্তা!

ইন্ডি (INDIA) জোটের বৈঠকে যোগ দিতে বর্তমানে দিল্লি সফরে রয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার জোটের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার রাজধানীর মাটি থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি দক্ষিণ কলকাতার আলিপুরে ৪ হাজার ইভিএম পুড়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নাম না করে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপিকে জিতিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থেকেই এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে এবং মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করছে গেরুয়া শিবির। মমতার দাবি, সুনির্দিষ্ট ছক কষেই দক্ষিণ কলকাতায় আলিপুরের একটি সরকারি ভবনের নয় তলায় আগুন লাগিয়ে চার হাজার ইভিএম এবং গণনা মেশিন পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, যেখানে অন্য কোথাও আগুন লাগেনি।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা জানান, অতীতে টিএন গিল, টিএন সেশন বা এসওয়াই কোরেশির মতো নির্বাচন কমিশনারদের দায়িত্ব পালন করতে দেখেছেন তিনি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি নজিরবিহীন। তাঁর অভিযোগ, প্রথমে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র অজুহাতে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়। পরে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা নিযুক্ত হলেও এখনো পর্যন্ত দেড় হাজার মানুষের নামও তালিকায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি, তাঁর নিজের গণনাকেন্দ্রেও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিষেকের সুর চড়ানো ও জোটের অবস্থান এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে মমতার পাশেই উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন ও বাবুল সুপ্রিয়ের মতো নেতৃত্ব। অভিষেকও ৪ হাজার ইভিএম পুড়ে যাওয়ার ঘটনার নিন্দা জানান এবং নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপিকে দেড়শো আসন উপহার দিয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। সবমিলিয়ে, দিল্লি থেকে বিরোধী জোটের এই হুঙ্কার জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।