যাত্রী ও কর্মীদের স্বাস্থ্য নিয়ে বড় বার্তা! আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে রেলের পানীয় জল নিয়ে চাঞ্চল্যকর ও স্বস্তির তথ্য

রেল স্টেশন, রেল দফতর, ওয়ার্কশপ এবং রেল কলোনি—প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও স্বাস্থ্যসম্মত পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এক বিরাট ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পূর্ব রেল (Eastern Railway)। সাম্প্রতিক সময়ে রেলযাত্রী, রেলকর্মী এবং কলোনির বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পূর্ব রেলের চারটি ডিভিশন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্কশপে জলের ট্যাঙ্ক ও জল সরবরাহের উৎসগুলি পরিষ্কার করার জন্য একটি বিশেষ ও ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে।
পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ২০ অগস্ট থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত একটি দীর্ঘ ও সুপরিকল্পিত মেগা ড্রাইভ পরিচালনা করা হয়। এই সময়ের মধ্যে ওভারহেড ট্যাঙ্ক, ভূগর্ভস্থ জলাধার (আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার) এবং পিভিসি (PVC) ট্যাঙ্ক সহ মোট ৭,৩৫৮টি জলের ট্যাঙ্ক সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। পূর্ব রেলের আওতাধীন প্রধান চারটি ডিভিশনেই এই পরিচ্ছন্নতার কাজ অত্যন্ত কঠোরভাবে তদারকি করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আসানসোল ডিভিশনে সর্বাধিক মোট ২,৪৬৫টি জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি, হাওড়া ডিভিশনে ২,১৮৭টি, শিয়ালদহ ডিভিশনে ১,৫৫৩টি এবং মালদহ ডিভিশনে ১,১৫৩টি জলের ট্যাঙ্ক সফলভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে। শুধু জলাধার সাফাই করাই নয়, জলের গুণমান এবং বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পানীয় জলের উৎস থেকে নিয়মিত নমুনা বা স্যাম্পল সংগ্রহ করে তা কঠোর গুণগত পরীক্ষার (Quality Testing) আওতায় আনা হয়েছে। জল নির্ধারিত মান বজায় রেখে পানযোগ্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই এই বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ।
বিশেষ করে গত ২১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর—এই মাত্র সাত দিনের একটি বিশেষ উইন্ডোতে পূর্ব রেলের বিভিন্ন এলাকার মোট ১,৪৯৮টি পানীয় জলের উৎসের গুণগত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়মিত নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের আগের জলের মান এবং পরিষ্কার করার পরের জলের মানের তুলনামূলক পরিবর্তন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে জলবাহিত রোগের ঝুঁকি যেমন একঝটকায় কমেছে, তেমনই রেলপরিবারে স্বস্তির হাওয়া বইছে।
রেলযাত্রী, রেলকর্মী এবং রেল কলোনির সাধারণ বাসিন্দাদের সার্বিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে জলাধারের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা এবং পানীয় জলের গুণমানের ওপর এই নজরদারি আগামী দিনেও আরও জোরদার করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে পূর্ব রেল প্রশাসন।