বই নিয়ে বচসা আর রক্তারক্তি! খাস কলকাতার নামী স্কুলে সহপাঠীর গলায় ধারাল অস্ত্রের কোপ, কোন ভয়ঙ্কর তথ্য এল সামনে?

বই নিয়ে সামান্য বচসার জেরে খাস কলকাতার এক প্রথম সারির নামী বেসরকারি স্কুলের ক্লাসরুমের মধ্যেই ঘটল এক ভয়ঙ্কর ও রোমহর্ষক কাণ্ড। নবম শ্রেণির এক পড়ুয়ার বিরুদ্ধে তারই এক সহপাঠীর গলায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই আকস্মিক ঘটনায় স্কুলের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং গোটা শহর জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।

স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত নাবালক ছাত্রটি অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় এই হামলার পরিকল্পনা করেছিল। ঠিক কোন শিরা কাটলে দ্রুত মৃত্যু হতে পারে এবং আইনের চোখে নাবালক হওয়ায় তার শাস্তি কম হতে পারে কি না— এই সমস্ত বিষয় নিয়ে সে আগে থেকেই বিশদ পড়াশোনা ও খোঁজখবর করেছিল বলে অভিযোগ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার শিকার হওয়া আহত ছাত্রটি হাওড়ার ধর্মতলা লেনের বাসিন্দা। এই হঠাৎ হানায় তার গলায় ও বাঁ হাতের আঙুলে গুরুতর ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

ঠিক কী হয়েছিল ক্লাসরুমে?

জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় ক্লাসরুমে স্বয়ং শিক্ষকও উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎই দুই সহপাঠীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি ও রক্তারক্তি কাণ্ড বেজে ওঠে। সহপাঠীর গলা থেকে রক্তপাত শুরু হতে দেখে তৎক্ষণাৎ তৎপর হন শিক্ষকরা। দ্রুত তাকে স্কুলের ইনফার্মারিতে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। পরে স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক ও কর্মীদের সহায়তায় তাকে দ্রুত বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চলছে। ইতিমধ্যে আহত ছাত্রের পরিবারকে গোটা বিষয়টি জানানো হয়েছে। স্কুলের অন্দরে ঠিক কীভাবে এবং কার বা কাদের নিরাপত্তাবেষ্টনী এড়িয়ে এমন একটি ধারাল অস্ত্র ক্লাসরুমের ভেতরে পৌঁছাল, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।