রাস্তার ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বাম্পার সুযোগ! জামানত ছাড়াই মিলছে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন, কী নিয়ম জানেন?

শহরের ফুটপাত, রাস্তা বা বাজার সংলগ্ন এলাকায় ছোট ব্যবসা করে যাঁরা জীবিকা নির্বাহ করেন, তাঁদের জন্য অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা আনতে বড় ভূমিকা পালন করছে কেন্দ্র সরকারের একটি বিশেষ প্রকল্প। ফল বা সবজি বিক্রেতা, চা কিংবা খাবারের দোকানি, নাপিত, মুচি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের হকার—অসংগঠিত ক্ষেত্রের এই সমস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে সহজে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের আওতায় আনতে চালু করা হয়েছে ‘পিএম স্বনিধি’ (PM SVANidhi – Prime Minister Street Vendor’s AtmaNirbhar Nidhi) প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিনা জামানতেই মিলছে কার্যকরী মূলধনের ঋণ।

ধাপে ধাপে বাড়ে ঋণের পরিমাণ

এই প্রকল্পের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো, সময়মতো ঋণ পরিশোধ করলে পরবর্তী ধাপে আরও বেশি পরিমাণ ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

  • প্রথম ধাপ: নতুন আবেদনকারীরা ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কার্যকরী মূলধনের ঋণ পেতে পারেন, যার পরিশোধের সময়সীমা ১২ মাস।

  • দ্বিতীয় ধাপ: প্রথম ধাপের ঋণ সময়মতো বা নির্ধারিত সময়ের আগে শোধ করলে দ্বিতীয় ধাপে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মেলে (মেয়াদ ১৮ মাস)।

  • তৃতীয় ধাপ: দ্বিতীয় ধাপের ঋণ সফলভাবে শোধ করার পর এই ধাপে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া সম্ভব, যার পরিশোধের মেয়াদ ৩৬ মাস পর্যন্ত হতে পারে।

সুদে ভর্তুকি থেকে ক্যাশব্যাকের সুবিধা

নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধকারী উপভোক্তাদের জন্য ৭ শতাংশ বার্ষিক সুদ ভর্তুকির ব্যবস্থা রয়েছে। এই ভর্তুকির অর্থ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (DBT) জমা হয়। এছাড়া ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ দিতে ইউপিআই বা কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেনের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাকের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ধাপের ঋণ সফলভাবে শোধকারীরা ইউপিআই-যুক্ত রূপের (RuPay) ক্রেডিট কার্ডও পেতে পারেন, যেখানে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্রেডিট লিমিট থাকে।

কারা আবেদন করতে পারেন এবং কী প্রয়োজন?

শহরের বিভিন্ন রাস্তার ছোট ব্যবসায়ী, যেমন ফল-সবজি বিক্রেতা, স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা, নাপিত ও মুচিরা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার জন্য স্থানীয় পুরসভা (ULB) থেকে দেওয়া বৈধ ‘সার্টিফিকেট অফ ভেন্ডিং’ (CoV) অথবা ‘লেটার অফ রিকমেন্ডেশন’ (LoR) থাকা বাধ্যতামূলক। এরপর নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। ছোট ব্যবসার দৈনন্দিন আর্থিক চাহিদা মেটাতে এবং হকারদের মূল স্রোতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে এই প্রকল্প দারুণ সহায়ক হয়ে উঠেছে।