ইন্টারনেটেও হোক কড়া সেন্সরশিপ! পাপারাজ্জিদের অশ্লীল ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল নিয়ে মেজাজ হারালেন সালমান খান

স্বপ্নের শহর মুম্বাইতে পাপারাজ্জি সংস্কৃতির দ্রুত উত্থান এবং তার জেরে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনে লাগাতার অনধিকার প্রবেশ প্রায়শই অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে জিমে যাওয়া কিংবা যেকোনো সাধারণ অনুষ্ঠানে অভিনেত্রীদের ওপর জুম করা ক্যামেরা এবং বেমানান বা অস্বস্তিকর অ্যাঙ্গেল দিয়ে ছবি তোলার প্রবণতা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এবার এই পুরো বিষয়টিকে প্রকাশ্যে এনে তীব্র সমালোচনা করলেন বলিউডের ‘দাবাং’ অভিনেতা সালমান খান।
সম্প্রতি ‘বিগ বস ২০’-এর ‘উইকেন্ড কা ভার’ মঞ্চে পাপারাজ্জিদের কুরুচিকর বিষয়বস্তু ও আচরণের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগেন ভাইজান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার লাগাম টানতে ইন্টারনেটেও অবিলম্বে সেন্সরশিপ বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনা দরকার।
অস্বস্তিকর কোণ ও নারীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন
সঞ্চালনা ও কথোপকথনের সময় সালমান খান পাপারাজ্জিদের কার্যপরিধি এবং ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া কুরুচিকর কনটেন্ট নিয়ে কড়া ভাষায় কথা বলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিউ বাড়ানোর অন্ধ দৌড়ে কিছু মানুষ যেভাবে অত্যন্ত অস্বস্তিকর কোণ থেকে অভিনেত্রীদের ছবি ও ভিডিয়ো তোলে, তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত লজ্জাজনক। এর ফলে ক্যামেরার সামনে থাকা নারীরা চরম অস্বস্তি ও মানসিক বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হন।
তবে সম্পূর্ণ পেশাকে এক বন্ধনীতে না ফেলে প্রবীণ ও নতুনদের আচরণের ফারাকও তুলে ধরেন অভিনেতা। তাঁর মতে, বহু বিচক্ষণ ও সিনিয়র পাপারাজ্জি পেশাদারিত্ব বজায় রাখেন এবং শালীনতার সীমা কোথায়, তা তাঁরা খুব ভালোভাবেই বোঝেন। বিশেষ করে বয়স্ক এবং পুরোনো ফটোগ্রাফাররা তারকাদের ব্যক্তিগত জায়গাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করেন। কিন্তু বর্তমান যুগে হাতে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে বহু নতুন লোক এই পেশায় ঢুকে পড়েছেন, যাঁদের একাংশ এই ন্যূনতম শালীনতার তোয়াক্কা করেন না। এর আগেও ভুয়ো এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ভিডিয়ো তৈরির বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সোচ্চার হতে দেখা গিয়েছিল সালমান খানকে। সবমিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ার এই লাগামহীন দৌরাত্ম্য রুখতে ভার্চুয়াল জগতেও এবার আইনের কড়াকড়ি চান বলিউডের এই মেগাস্টার।