পুজোর আনন্দ মাটি করতে আসছে মারণ ডেঙ্গি! অক্টোবর-নভেম্বর নিয়ে চরম সতর্কবার্তা প্রশাসনের

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো একেবারে দোরগোড়ায়। চারদিকে যখন পুজো পুজো গন্ধ এবং নতুন পোশাক কেনার ধুম, ঠিক সেই মুহূর্তেই রাজ্যবাসীর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ডেঙ্গি পরিস্থিতি। উৎসবের এই আনন্দঘন আবহের মাঝেই আগামী অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসকে ডেঙ্গির ক্ষেত্রে ‘হাই-রিস্ক পিরিয়ড’ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ডেঙ্গির দাপট রুখতে সমস্ত জেলাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল।

সোমবার নবান্ন থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যসচিব। সেই বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ডেঙ্গি দমনে কোনও স্তরে বিন্দুমাত্র গাফিলতি বা শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, পুজোর ঠিক আগে গত দু’সপ্তাহের মধ্যেই রাজ্যে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।

দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ডেঙ্গির প্রকোপ সবথেকে বেশি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। ঠিক পরেই আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে রয়েছে কলকাতা, নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা। আক্রান্তের এই দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ দেখেই সোমবার নবান্নে জরুরি প্রশাসনিক বৈঠক ডাকা হয়। মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে ১৬টি দফতরের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনাররা। বিধাননগর, আসানসোল এবং শিলিগুড়ি পুরনিগমের কমিশনারদেরও এদিনের বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

রাজ্যের বর্তমান ডেঙ্গি পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক জায়গাতেই পৌঁছেছে। গত ৬ আগস্ট পর্যন্ত গোটা রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২,৪১০ জন। কিন্তু এক মাসের সামান্য বেশি ব্যবধানে ১০ সেপ্টেম্বর সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৪,৬৭৯ জনে দাঁড়িয়েছিল। আর ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের মোট সংখ্যা এক লাফে ৭,৩২০-তে পৌঁছে গেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে দেড়শোর বেশি মানুষ নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছেন। এর জেরে স্বাভাবিকভাবেই প্রবল চাপ বাড়ছে হাসপাতালগুলির ওপর। প্রশাসনের একাংশের মতে, বর্ষা বিদায় নেওয়ার পরেই রাজ্যে ডেঙ্গির দাপট সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। অতীতের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই এবার আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দিচ্ছে নবান্ন।

এদিনের বৈঠকে মুখ্যসচিব কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেছেন যে, শুধু খাগের কলমে রিপোর্ট সংগ্রহ করলেই চলবে না, জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সরাসরি মাঠে নেমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। স্বাস্থ্য, পুর ও পঞ্চায়েত সহ সমস্ত সংশ্লিষ্ট দফতরকে একযোগে মাঠে নেমে নিবিড় নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও যাতে জল জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না-পারে, সেদিকে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে রাজ্য প্রশাসন। নিয়মিত এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, মশার লার্ভা ধ্বংসের কাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা প্রচারের কর্মসূচিকে আরও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি দফতরকে পারস্পরিক সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।