রাকুলপ্রীতের বাড়িতে আচমকা আইটি হানা! মাদক কাণ্ডের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই কোন বড় বিপাকে অভিনেত্রী?

মুম্বই চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি ও কড়াকড়ি আরও বাড়াল আয়কর (আইটি) বিভাগ। তহবিল সংক্রান্ত সন্দেহজনক অনিয়ম এবং চলচ্চিত্র অর্থায়নের আড়ালে বৈদেশিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এবার অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং, তাঁর শ্বশুর তথা প্রবীণ চলচ্চিত্র প্রযোজক বাসু ভাগনানি এবং প্যানোরামা স্টুডিওর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্থানে একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে তদন্তকারী সংস্থা।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বই আয়কর বিভাগের একাধিক দল একসঙ্গে প্রায় ১২টি স্থানে এই তল্লাশি চালাচ্ছে। গোয়েন্দারা বিভিন্ন আর্থিক রেকর্ড, গোপন নথি এবং লেনদেনের বিবরণ নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন। প্রাথমিক অভিযোগ রয়েছে যে, বিভিন্ন চলচ্চিত্র প্রকল্পে অর্থায়নের আড়ালে মোটা অঙ্কের তহবিল বেআইনিভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছিল।

প্যানোরামা স্টুডিও ও আসন্ন ছবি ঘিরে জল্পনা

যেসব জায়গায় এই অভিযান চলছে, তার মধ্যে অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হলো প্যানোরামা স্টুডিও। এই জনপ্রিয় প্রযোজনা সংস্থাটির কর্ণধার হলেন কুমার মঙ্গত পাঠক। সংস্থাটি অজয় দেবগন, শ্রিয়া সরণ এবং জয়দীপ আহলাওয়াত অভিনীত বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘দৃশ্যম ৩ / দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’-এর অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, যা আগামী ২ অক্টোবর মুক্তি পাওয়ার কথা। ছবি মুক্তির ঠিক প্রাক্কালে এই আইটি হানা গোটা বলিউড পাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তবে লেনদেন সংক্রান্ত বিস্তারিত আর্থিক তথ্য এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

অতীতেও পরিবারকে ঘিরে বিতর্ক

এর আগে গত বছর রাকুল প্রীত সিংয়ের পরিবারকে কেন্দ্র করে অন্য একটি গুরুতর মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মুম্বই পুলিশ একটি মাদক মামলায় অভিনেত্রীর ভাই আমান প্রীত সিংয়ের খোঁজে তল্লাশি চালিয়েছিল। এলিট অ্যাকশন গ্রুপ ফর ড্রাগ ল এনফোর্সমেন্ট (EAGLE) ফোর্স এবং পশ্চিম অঞ্চল পুলিশের যৌথ অভিযানে মাদক পাচারের অভিযোগে দু’জন ব্যবসায়ীকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই সমস্ত ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আয়কর বিভাগের এই নতুন অভিযান রাকুলপ্রীত ও তাঁর পরিবারের ওপর নতুন করে আইনি মেঘ ঘনাচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহল।