পরিবারে কারও মৃত্যু হলে ১ বছর কী কী করা নিষেধ? গরুড় পুরাণের এই কঠোর নিয়মগুলি না মানলে হতে পারে বড় অমঙ্গল!

হিন্দু ধর্মে জন্ম থেকে মৃত্যু—প্রতিটি সংস্কার ও নিয়মের পেছনে গভীর আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে। বিশেষ করে পরিবারে কোনো সদস্যের প্রয়াণ ঘটলে শোকার্ত পরিবারের জন্য গরুর পুরাণে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম ও বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। তেহেরী বা শোকাচ্ছন্ন দিনগুলি পেরিয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী একটি বছর কীভাবে কাটানো উচিত এবং কোন কাজগুলি থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা দরকার, তা নিয়ে মানুষের মনে নানা কৌতূহল থাকে।
মৃত্যুর পর প্রথম এক বছর কী করা উচিত?
শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, পরিবারের কারও মৃত্যুর পর প্রথম এক বছর (বিশেষত তেহেরী থেকে প্রথম বার্ষিকী পর্যন্ত) অত্যন্ত সংযম ও শোকের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়। এই সময় মৃত আত্মার শান্তি কামনায় বেশ কিছু ধর্মীয় আচার পালন করার রীতি রয়েছে:
মাসিক তর্পণ ও শ্রদ্ধা: মৃত ব্যক্তির প্রয়াণের দিন অনুযায়ী প্রতি মাসে মাসিক তিথি বা সपिণ্ডীকরণ বিধান মেনে ধর্মীয় কার্যাদি সম্পন্ন করা।
নিয়মিত পাঠ ও জপ: প্রতিদিন পবিত্র ভগবদ্গীতা (বিশেষ করে সপ্তম অধ্যায়) পাঠ করা এবং ‘ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ কিংবা মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করা।
দান ও সেবা: গরিব ও দুঃস্থদের মধ্যে অন্ন ও বস্ত্রদান করা, পাশাপাশি গোসেবা (গাইকে গ্রাস দেওয়া) এবং পবিত্র পিপল গাছে জল অর্পণ করা।
সা্ত্বিক জীবনযাপন: পরিবারের সকল সদস্যকে সম্পূর্ণ সা্ত্বিক আহার গ্রহণ করতে হয় এবং অত্যন্ত সরল ও বিনম্র জীবনযাপন বজায় রাখতে হয়।
এক বছর পর্যন্ত কোন কাজগুলি বর্জনীয়?
পরিবারের প্রিয়জনকে হারানোর পর পরবর্তী ৩৬৫ দিন বা এক বছর বেশ কিছু আনন্দ উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিষেধের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
বিবাহ ও বড় অনুষ্ঠান: পরিবারের নিকটজনদের মধ্যে বিয়ে, গৃহপ্রবেশ কিংবা বড় কোনো মাঙ্গলিক ও উৎসবমুখর আয়োজন এই এক বছর সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
বিনোদন ও উৎসবের উদযাপনে নিষেধাজ্ঞা: দীপাবলি, হোলির মতো বড় উৎসবগুলি জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপন করা থেকে বিরত থাকতে হয়। এছাড়া জন্মদিন বা অন্যান্য পার্টি, সঙ্গীতানুষ্ঠান এবং বাহ্যিক আনন্দ উৎসবে যোগদান করা যায় না।
নতুন পোশাক ও অলংকার: এই সময়ের মধ্যে ভड़कीলে বা রঙিন পোশাক, নতুন সাজসজ্জা এবং ভারী গহনা পরা এড়িয়ে চলাই নিয়ম।
তীর্থ বা আনন্দভ্রমণ: কোনো ধরনের বিনোদনমূলক ভ্রমণ, পিকনিক বা আনন্দদায়ক মেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হয়।
গৃহশুদ্ধি ও পূজা-পাঠ কবে থেকে শুরু হয়?
সাধারণত সনাতন প্রথা অনুযায়ী পরিবারে কারো মৃত্যুর পর ১৩ দিন বা তেহেরী পর্যন্ত সূतक কাল বা অশৌচ থাকে। এই দিনগুলিতে বাড়িতে কোনো ধরনের সাধারণ পূজা-পাঠ বা মাঙ্গলিক কাজ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। ত্রয়োদশীর দিন বিশেষ হোম-যজ্ঞ ও গঙ্গাজল ছিটিয়ে পুরো বাড়ি শুদ্ধিকরণ করা হয়। এর পরই বাড়িতে প্রাত্যহিক দেবপুজো পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস ও পরম্পরার ওপর ভিত্তি করে যুগ যুগ ধরে এই নিয়মগুলি সমাজ মেনে চলে আসছে।