দিল্লিতে ২০ দিনে ১৩ ধর্ষণ! নিরাপত্তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের চরম কড়া বার্তার পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন

মাত্র কুড়ি দিনের ব্যবধানে রাজধানী দিল্লি এবং এর সংলগ্ন এনসিআর এলাকায় ঘটে চলা একের পর এক নৃশংস অপরাধ শিড়দাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বইয়ে দিচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই নারী ও নাবালিকাদের ওপর নির্যাতন এবং ধর্ষণের অন্তত ১৩টি চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দিল্লির আস্থা কুঞ্জ পার্কে ১৭ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণ কিংবা চলন্ত বাসে নাবালিকার ওপর যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনাগুলো আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর। এই ক্রমবর্ধমান অপরাধের চিত্রটি এবার পৌঁছে গিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই বিষয়ে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অপর্যাপ্ত আলো, সঠিক নজরদারির অভাব বা পুলিশি টহলের ঘাটতির কারণে জনবহুল স্থানগুলোকে নারী ও শিশুদের জন্য মৃত্যুফাঁদ হতে দেওয়া যাবে না। এই নারকীয় ঘটনাগুলোকে নিছক ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবে দেখতে নারাজ শীর্ষ আদালত, বরং একে জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলার গুরুতর পতন হিসেবেই দেখছে তারা।

৫টি মূল বিষয় এক নজরে:

  • ভয়াবহ পরিসংখ্যান: সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মোট ১৩টি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে।

  • শীর্ষ আদালতের পদক্ষেপ: ক্রমবর্ধমান অপরাধের জেরে নড়েচড়ে বসেছে সুপ্রিম কোর্ট, স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে শুরু হয়েছে বিশেষ মামলা।

  • নিরাপত্তায় জোর: আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে জনবহুল এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং নিয়মিত পুলিশি টহল নিশ্চিত করতে হবে।

  • পুরোনো আতঙ্ক: নির্ভয়া কাণ্ডের ১৪ বছর পরও রাজধানী কেন নারীদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠতে পারল না, তা নিয়ে ফের জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।

  • জবাবদিহিতা: কেবল ঘটনার পর উদ্বেগ প্রকাশ করলেই চলবে না, অপরাধ রোধে পুলিশ প্রশাসনের ওপর কঠোর দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করা হবে।

নিরাপত্তার এই ফাঁকফোকর বন্ধ করতে এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে এবার আইনপ্রণেতা ও পুলিশ প্রশাসন কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।