জলে ডোবা গর্তে খাদের কিনারে জীবন! লিকুইড টাউনশিপের বেহাল দশায় চরম ভোগান্তি

দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। চারদিকে যখন উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন মধ্যমগ্রাম পৌরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের এলআইসি টাউনশিপের বাসিন্দারা। উৎসবের মরশুমের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এলাকার রাস্তাঘাটগুলির বেহাল দশা স্থানীয়দের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে শেষ পর্যন্ত ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে এলাকার রাস্তাগুলির এই করুণ পরিস্থিতি। রাস্তার বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্ষার জল জমে থাকার কারণে গর্তগুলির গভীরতা বোঝার কোনো উপায় থাকে না, যার ফলে প্রতিনিয়ত বিপদে পড়ছেন বাইক, টোটো এবং ছোট গাড়ির চালকরা। সামান্য অসতর্ক হলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি বাসিন্দাদের। শুধু তাই নয়, বেহাল এই রাস্তার কারণে জরুরি পরিষেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অসুস্থ রোগী নিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সের যাতায়াত থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়া ও প্রবীণ নাগরিকদের দৈনন্দিন যাতায়াত রীতিমতো দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
রাস্তার পাশাপাশি এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। জল নিষ্কাশনের উপযুক্ত নালা না থাকায় বৃষ্টির জল দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় জমে থাকছে, যার ফলে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে পিচের রাস্তা। নিকাশি নালা তৈরির জন্য সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দের কথা থাকলেও কাজের কাজ যে কে সেই। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই বিষয়ে মধ্যমগ্রাম পৌরসভার পৌরপ্রধান নিমাই ঘোষ জানিয়েছেন, রাস্তা সংস্কারের পরিকল্পনা ইতিমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে এবং অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি নিকাশির কাজের ক্ষেত্রে তহবিলের কিছু অংশের অপেক্ষায় রয়েছে পৌরসভা। পুজো শুরুর আগে এলআইসি টাউনশিপের এই মরণফাঁদ রাস্তা সংস্কার করে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো যায় কিনা, এখন সেটাই দেখার।