বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় আপডেট! টাকা হাতে পাওয়ার আগে কোন বড় নিয়ম মানতে হবে রাজ্য কর্মীদের?

রাজ্য সরকারি কর্মী ও আধিকারিকদের পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) প্রদানের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। তবে বকেয়া ডিএর সম্পূর্ণ অর্থ হাতে পাওয়ার ক্ষেত্রে আয়কর কর্তন এবং অতিরিক্ত প্রদান বা ‘ওভারড্রল’-এর হিসাব একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থ দপ্তরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রুপ এ, বি এবং সি শ্রেণির কর্মী ও আধিকারিকদের বকেয়া ডিএর সমস্ত অর্থ সরাসরি জিপিএফ (GPF)-এ জমা করা হবে। টাকা তোলার সময় প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আয়কর বাবদ নির্দিষ্ট অর্থ কেটে নেওয়া হবে। পাশাপাশি, অতীতে ভুলবশত প্রাপ্যের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়ে থাকলে, সেই হিসাবও সমন্বয় করা হবে।
উল্লেখ্য, বকেয়া ডিএ দুটি পৃথক দফায় জিপিএফে জমা করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া অংশ গত এপ্রিলেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, গ্রুপ ডি কর্মীদের ক্ষেত্রে এই বকেয়া ডিএ সরাসরি তাঁদের স্যালারি অ্যাকাউন্টে জমা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে কর্মরত গ্রুপ এ, বি ও সি কর্মীরা জিপিএফে জমা হওয়া এই বকেয়া অর্থ ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসের আগে তুলতে পারবেন না। অবশ্য অবসর, চাকরি থেকে ইস্তফা বা অনভিপ্রেত মৃত্যুর মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আগেই তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বকেয়া ডিএ জমা দেওয়ার পূর্বে আয়কর বাবদ কত পরিমাণ অর্থ কাটা হবে, তা সংশ্লিষ্ট ডিডিও (DDO)-রা হিসাব করবেন। যদিও ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে এই হিসাব করা হবে, তা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। কর্মীমহলের একাংশের অনুমান, সংশ্লিষ্ট অর্থবর্ষে বর্ধিত ডিএ মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হলে কর্মীর বার্ষিক আয়কর যতটা বাড়ত, সেই হিসাবের ভিত্তিতেই এই কর্তন করা হতে পারে।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টে চলমান ডিএ মামলার অন্যতম প্রধান পক্ষ ‘কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ’-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, আইন অনুযায়ী আয়কর কাটার বিষয়ে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তবে ‘ওভারড্রল’-এর যুক্তিতে বকেয়া টাকা কেটে নেওয়ার বিরোধিতায় সোচ্চার হয়েছেন তারা। সংগঠনের জোরালো দাবি, সর্বভারতীয় মূল্যসূচক বা AICPI-এর সঠিক নিয়ম মেনে বকেয়া ডিএর হিসাব করা হয়নি, ফলে কর্মীরা তাঁদের প্রকৃত প্রাপ্যের তুলনায় অনেক কম অর্থ পাচ্ছেন। পুরো বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মালহোত্রা কমিটির নজরে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে। ওই কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর চলতি বছরের অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।