মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে নামছে ‘ককরোচ’রা! সোনম ওয়াংচুকের সমর্থন পেয়ে কি বড় ঝড়ের ইঙ্গিত?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ২ অক্টোবর থেকে দেশ জুড়ে ফের একবার বৃহত্তর আন্দোলনে নামার চূড়ান্ত ঘোষণা করল যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। এর আগে সিইসি-র ইস্তফা চেয়ে ৪৮ ঘণ্টার একটি কড়া আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেই শুক্রবার সংগঠনের পক্ষ থেকে পরবর্তী লড়াইয়ের রূপরেখা প্রকাশ করা হয়। নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ককরোচদের এই সরব লড়াইয়ে এবার প্রকাশ্যেই নিজেদের সমর্থন জানিয়েছে দেশের বিশিষ্ট সমাজ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, বর্তমান সময়ে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বার্থে একটি স্বচ্ছ ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। সেই সুবাদেই তিনি এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এর আগে ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে যে দীর্ঘ আন্দোলন গড়ে তুলেছিল সিজেপি, তাতে স্বয়ং যোগ দিয়ে অনশন পালন করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। সেই সময় ওই প্রতিবাদের প্রচণ্ড চাপের মুখেই শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ঠিক একই রকম কড়া পন্থায় এ বার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধেও আন্দোলন তীব্র করার বার্তা দিয়েছে ককরোচ নেতৃত্ব।
নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করায় শুক্রবার সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপ আগামী ২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করেন। ঠিক হয়েছে, এই আন্দোলনের প্রথম স্ফুলিঙ্গ জ্বলবে মুম্বই শহরে, যা পরবর্তীতে ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন ছোট ও বড় শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
সিজেপির এই রাজনৈতিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে লাদাখের প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, যখন যন্তর মন্তরে প্রথমবার এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তখন এই সংগঠনটি সম্পূর্ণ নতুন ছিল। কিন্তু সে সময়ই তিনি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর মতে, বর্তমানে এই তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠস্বর আরও অনেক বেশি জোরালো ও সুদৃঢ় হয়ে উঠেছে এবং তাদের এই প্রতিবাদ গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে আগামী ২ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলা এই নতুন দফার প্রতিবাদে তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে সব কটি মাঠে উপস্থিত থাকা সম্ভব না হলেও, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই ধরনের প্রতিটি ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের প্রতি তাঁর নীতিগত ও নৈতিক সমর্থন সর্বদা বজায় থাকবে বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।