পার্সেল চুরি বা নষ্ট হওয়ার দিন শেষ! এনজেপি থেকে শিলিগুড়ি— রেলের এই আধুনিক চমক দেখে স্তম্ভিত যাত্রীরা

রেলে পার্সেল বা বুকিং করা জরুরি জিনিসপত্র চুরি, হারিয়ে যাওয়া কিংবা নষ্ট হয়ে যাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের চিন্তার অন্ত থাকে না। এবার সেই বুকিং করা লাগেজ ও মালামালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR)। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) ও হলদিবাড়ি সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বুকিং করা পণ্য সামগ্ৰী সাময়িকভাবে রাখার জন্য তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ ‘হাই-টেক পার্সেল কেজ’ (Parcel Cage)।

রেল সূত্রে খবর, কিষাণগঞ্জ, নিউ জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, হলদিবাড়ি, মালদা কোর্ট, বালুরঘাট এবং কাটিহার স্টেশনে এই সুবিধা চালুর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই নিউ জলপাইগুড়ি, কাটিহার, মালদা কোর্ট এবং বালুরঘাটে জোরকদমে কেজ বসানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। অবশিষ্ট তিনটি স্টেশনেও দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে রেলের তরফে জানানো হয়েছে।

কী সুবিধা মিলবে এই নয়া ব্যবস্থায়?

  • চুরি ও ক্ষতির ঝুঁকি শূন্য: আলাদাভাবে ঘেরা ও সুরক্ষিত এই কেজগুলিতে পণ্যসামগ্রী সাময়িকভাবে নিরাপদে রাখা যাবে। ফলে মালপত্র চুরি যাওয়া, হাতবদল হওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।

  • সুশৃঙ্খল পরিকাঠামো: পার্সেল হ্যান্ডলিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান তৈরি হওয়ায় স্টেশন চত্বরে পণ্যসামগ্রীর জটলা কমবে এবং স্টেশনের জায়গার সঠিক ব্যবহার সম্ভব হবে।

  • দ্রুত ও সুগম পরিষেবা: কেজ ব্যবস্থার ফলে রেলকর্মীরা অত্যন্ত সহজে ও নির্ভুলভাবে পার্সেল চিহ্নিত করে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারবেন।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের এই মেগা উদ্যোগের ফলে রেলের পার্সেল ও বুকিং পরিষেবার ওপর সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের আস্থা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন রেলের শীর্ষ আধিকারিকরা।