খরার সঙ্গে ধেয়ে আসছে ভয়াল তাপপ্রবাহ! এল নিনোর থাবায় শুরু হচ্ছে চরম ধ্বংসলীলা

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দ্রুত বদলাচ্ছে আবহাওয়া। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, এ বছর ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে চরম রূপ নিতে চলেছে তাপমাত্রা ও তাপপ্রবাহ। অতিরিক্ত গরম ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে বলে এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাসে জানিয়েছে মার্কিন সংস্থা ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’।
৬ মাসে সাড়ে ৪ লক্ষাধিক মৃত্যুর আতঙ্ক!
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের গবেষকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারাতে পারেন প্রায় ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষ। বিগত বছরের গড় তাপমাত্রার তুলনায় এই সময়কালে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হারে অতিরিক্ত গরমের দিন বৃদ্ধি পাবে, যার বড় মূল্য চোকাতে হবে জনস্বাস্থ্যকে।
ভারতের পরিস্থিতি কতটা চিন্তার?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এল নিনোর প্রভাবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভারতে প্রায় ১৫,৮০০ জন মানুষের মৃত্যু হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এই বিপদ কেবল ফেব্রুয়ারিতেই থমকে থাকবে না। ভারতের ক্ষেত্রে চরম গরম ও তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাব ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত গড়া হতে পারে। ফলে আগামী গ্রীষ্মে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও কয়েক গুণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এশিয়া ও আফ্রিকাতেই সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব
রিপোর্ট বলছে, সুপার এল নিনোর সবচেয়ে বড় কোপ পড়তে চলেছে গ্লোবাল সাউথ বা আফ্রিকা ও এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর:
আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল: এই অঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে মারাত্মক হতে পারে। শুধু নাইজেরিয়াতেই ৩১,৪০০ জন, সুদানে ১৭,৫০০ জন, নাইজারে ১০,০০০ এবং চাদে ৮,০০০ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মিলিয়ে প্রায় ১৯,৪০০ জনের জীবনহানি হতে পারে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় ১৯,৩০০ এবং দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে ১৩,৩০০ জন প্রাণ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা।
কেন এত বিপজ্জনক রূপ নিচ্ছে ‘এল নিনো’?
প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের জলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে যাওয়াকে এল নিনো বলে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এবং মার্কিন মহাকাশ ও আবহাওয়া সংস্থা NOAA জানিয়েছে, ২০২৬-এর শেষের দিকে সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেড়ে এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ বা ‘গডজিলা এল নিনো’ হিসেবে রূপ নিতে পারে।
উন্নয়নশীল দেশেই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি
১৯৯৬ থেকে ২০২৫ সালের জলবায়ু উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তৈরি এই গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত কুলিং ব্যবস্থা বা স্বাস্থ্য পরিকাঠামো না থাকায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর বয়স্ক, শিশু, দিনমজুর ও অসুস্থ মানুষরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন।
তবে গবেষকরা আশ্বস্ত করেছেন, এই সংখ্যাটি একটি সম্ভাব্য পূর্বাভাস। বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো আগেভাগে পর্যাপ্ত কুলিং সেন্টার, বিশুদ্ধ জলের সংস্থান ও জরুরী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখলে এই সম্ভাব্য মর্মান্তিক বিপর্যয় অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব।