ডায়াবেটিস আছে অথচ ধূমপান ছাড়েন না? এই মারাত্মক ভুল ডেকে আনছে পতন!

আধুনিক জীবনযাত্রার বদলের সঙ্গে সঙ্গে যেমন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন রোগবালাই, তেমনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ধূমপানের মতো মারাত্মক আসক্তিও। ইতিমধ্যে ভারত বিশ্বের ‘ডায়াবেটিস রাজধানী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এই দুইয়ের বিপজ্জনক সংমিশ্রণ কীভাবে মানুষের জীবনকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তা উঠে এল এক সাম্প্রতিক গবেষণায়। চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস এবং ধূমপান একসঙ্গে মিলে শরীরে এমন এক প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, যা রোগীর অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সাম্প্রতিক একটি মেটা-বিশ্লেষণে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিরা যদি নিয়মিত ধূমপান করেন, তবে তাঁদের মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। অন্য একটি গবেষণায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার রোগীর ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এই অভ্যাসের ফলে হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যুর সম্ভাবনাও প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি থাকে। এই পরিসংখ্যানে রীতিমতো উদ্বিগ্ন চিকিৎসকমহল। বিশেষজ্ঞরা এখন থেকে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসার সামগ্রিক পরিকল্পনায় ধূমপান বর্জনের বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করার জোরালো দাবি তুলছেন।
এই মারণ অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে গবেষণায় কিছু বিশেষ উপায়ের কথাও বলা হয়েছে। চিকিৎসকরা ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে ‘ভ্যারেনিক্লিন’ (Varenicline) ওষুধটিকে প্রথম পছন্দ হিসেবে সুপারিশ করছেন। বিকল্প হিসেবে ‘নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’ বা ‘বুপ্রোপিয়ন’ (Bupropion)-ও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু ওষুধ খেলেই হবে না, ধূমপান ছাড়ার দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা, রক্তচাপ ও ওজন পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পর শরীরের মেটাবলিজমে পরিবর্তন আসায় অনেক সময়ই সুগার নিয়ন্ত্রণের ওষুধগুলির মাত্রা বদলানোর প্রয়োজন পড়ে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতন না হলে এই দুইয়ের যুগলবন্দি বড় কোনো বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।