আমেরিকা-চিনের ঠান্ডাযুদ্ধে বিরাট মোড়! দক্ষিণ এশিয়ার জন্য ‘তৃতীয় পথ’ বাতলে দিল ফ্রান্স

আমেরিকা ও চিনের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক রেষারেষির মাঝেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নতুন কৌশলগত পথ বাতলে দিল ফ্রান্স। বিশ্ব রাজনীতির এই দুই মহাশক্তির দ্বন্দ্বে এশিয়ার দেশগুলো যাতে কারও তাঁবেদারি করতে বাধ্য না হয়, তার জন্য একটি ‘তৃতীয় পথ’ বা থার্ড ওয়ের প্রস্তাব দিয়েছে প্যারিস। ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দেশগুলো যাতে নিজেদের কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রেখে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাতে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে ফ্রান্স।

বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের টানাপোড়েন যখন চরমে, ঠিক তখনই ইউরোপ ও ফ্রান্স ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী বা ‘ব্যালেন্সিং পাওয়ার’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চাইছে। ফরাসি রাষ্ট্রদূতের মতে, বড় শক্তিগুলোর চাপিয়ে দেওয়া দ্বন্দ্বে ছোট বা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে যেন নির্দিষ্ট কোনো একটি শিবিরের পক্ষে ঝুঁকতে বাধ্য না করা হয়। এই অঞ্চলের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং নিজস্ব নীতি বজায় রাখাই তাদের মূল কূটনৈতিক লক্ষ্য।

পাশাপাশি, উত্তর ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত। বিশ্ব বাণিজ্যের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুটে সম্প্রসারণবাদ বা জবরদখলের নীতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, বেআইনি মৎস্য শিকার, জলদস্যুতা কিংবা চোরাচালানের মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশসহ বন্ধু দেশগুলির সঙ্গে যৌথভাবে নজরদারি বাড়াচ্ছে ফ্রান্স। ওয়শিংটন ও বেজিংয়ের এই ক্ষমতার লড়াইয়ের মাঝে ফ্রান্সের এই স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক নতুন এবং তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করছে।