স্মৃতিশক্তি কমলেই কি বার্ধক্যের ছাপ? ৪০-৫০ এই যুবকদের গ্রাস করছে অ্যালজাইমার, সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা

বয়স বাড়লেই জিনিসপত্র ভুলে যাওয়া বা পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করতে না পারার সমস্যাকে অনেকে বার্ধক্যের সাধারণ লক্ষণ বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু এটি যে ভবিষ্যতে এক ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তার বড় ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব অ্যালজাইমার দিবসে বিশিষ্ট নিউরোলজিস্ট ডা. বৈভব শেঠ এই মারণ রোগ সম্পর্কে একাধিক চাঞ্চল্যকর ও অন্ধকূপ উন্মোচনকারী তথ্য সামনে এনেছেন, যা সাধারণ মানুষের চোখ খুলে দেওয়ার মতো।
কম বয়সেও হানা দিচ্ছে অ্যালজাইমার
সাধারণত মানুষের ধারণা যে, ষাটোর্ধ্ব প্রবীণদেরই কেবল অ্যালজাইমার বা ডিমেনশিয়া আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু চিকিৎসকের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বর্তমান দিনে কম বয়সেও অ্যালজাইমার বাসা বাঁধছে মানুষের মস্তিষ্কে। বিশেষ করে জিনগত বা পারিবারিক কোনো প্রবণতা থাকলে ৪০ কিংবা ৫০ বছর বয়সেই এই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকের কথায়, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা সামাজিক ও কাজের চাপের কারণে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা তৈরি হলেও, তা অ্যালজাইমার কি না তা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রাথমিক লক্ষণ এবং পরিবারের ভূমিকা
রোগের শুরুতে মস্তিষ্কের যে অংশটি সাম্প্রতিক স্মৃতি তৈরি করে, সেটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে কিছুক্ষণ আগের ঘটে যাওয়া কথা বা সকালের খাবার খাওয়ার বিষয়টিও রোগী ভুলে যান। শুধু তাই নয়, নিয়মিত যাতায়াতের চেনা রাস্তা বা নিজের বাড়ি চিনতে না পারা, কিংবা মানুষের নাম মনে না পড়ার মতো গুরুতর সমস্যাও দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রোগী নিজে অনেক সময় বুঝতে পারেন না যে তাঁর মধ্যে কী ধরনের মানসিক পরিবর্তন ঘটছে। তাই পরিবারের সদস্য বা যারা রোগীর দেখভাল করেন (কেয়ারগিভার), তাঁদের পর্যবেক্ষণ রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। অকারণে সন্দেহ করা বা অবাস্তব কিছু বিশ্বাস করার মতো আচরণগত পরিবর্তনও এর অন্যতম লক্ষণ।
চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত
অনেকেরই ধারণা, অ্যালজাইমার ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে আর রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এই ধারণায় বড় বদল এনেছে। রক্ত পরীক্ষা কিংবা স্পাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের প্রাথমিক পর্যায়েই বায়োমার্কার শনাক্ত করা সম্ভব। এছাড়া বর্তমানে অ্যান্টি-অ্যামাইলয়েড চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে মস্তিষ্কে জমে থাকা ক্ষতিকর প্রোটিনকে লক্ষ্য করে রোগের গতি শ্লথ করে দেওয়া যায়।
রোগী তো বটেই, পাশাপাশি এই রোগের জেরে কেয়ারগিভারদের উপর যে মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হয়, তা সামলাতে কাউন্সেলিং এবং সোশ্যাল সাপোর্ট গ্রুপের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে এই কঠিন রোগের হাত থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।