চোখেই পড়ছে না ক্যামেরা! এআই চশমার গোপন ভিডিওর জালে সাধারণ মানুষ, ভারতের বাজারে বাড়ছে মারাত্মক বিপদ

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় চশমা এখন কেবল দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং গান শোনা, ছবি তোলা থেকে শুরু করে মানুষ চিনতেও সাহায্য করছে এ ধরনের গ্যাজেট। তবে মেটা ও রে-ব্যানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘এআই গ্লাস’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চশমা নিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে এক গভীর সংকট। সাধারণ চশমার মতো দেখতে এই অত্যাধুনিক গ্যাজেটটি ব্যবহার করে অজান্তেই মানুষের ছবি বা ভিডিও তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।
গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও আইনি ফাঁকফোকর
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চশমায় থাকা আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা এবং মুখের পরিচিতি শনাক্ত করার (ফেস রেকগনিশন) মতো উন্নত প্রযুক্তির অপব্যবহার করা অত্যন্ত সহজ। সম্প্রতি কলকাতার এক কলেজ শিক্ষিকার অজান্তেই তার ভিডিও রেকর্ড করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশি পদক্ষেপের মতো ঘটনা সামনে এসেছে, যা দেশের সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে। অনেক সময় রেকর্ডিংয়ের সময় জ্বলে ওঠা ছোট এলইডি লাইটও টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া সম্ভব হওয়ায় সামনে থাকা ব্যক্তি বুঝতেও পারেন না যে তার গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, জনবহুল স্থানে বা ভিআইপি সমাবেশে এই চশমার মাধ্যমে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করা হলে তা বড় ধরনের সাইবার অপরাধ বা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাছাড়া, এ ধরনের গোপনে ভিডিও ধারণ করার বিরুদ্ধে ভারতে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট ও কঠোর কোনো আলাদা আইন না থাকায় আইনি লড়াইয়েও বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মগুলি থেকে আপত্তিকর ভিডিও মুছে ফেলার ক্ষেত্রেও ভুক্তভোগীদের নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
চাহিদা তুঙ্গে বাজারে
ভারতের বাজারে মেটার এই স্মার্ট চশমার বিভিন্ন সংস্করণ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনলাইনে ও অফলাইনে ক্রেতাদের মধ্যে এগুলির তুমুল চাহিদার কারণে শহর থেকে শহরান্তরে বিক্রি বাড়ছে হু হু করে। যদিও প্রস্তুতকারী সংস্থার তরফে গোপনীয়তা রক্ষায় বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, তবুও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং কঠোর আইনি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।