পরীক্ষার হলে স্মার্টফোন ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা! কাঠগড়ায় আইআইটির প্রবীণ অধ্যাপক

আইআইটি বোম্বের দ্বিতীয় বর্ষের এক বি-টেক পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। এই ঘটনার জেরে তীব্র ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে ডিনের পদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে অভিযুক্ত অধ্যাপক তথা পরীক্ষার ইনভিজিলেটর সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে। পাশাপাশি, পুরো ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে।

মৃত ছাত্রের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পওয়াই থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে অধ্যাপক দুল্লার। পরিবার ও ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের তরফে ওই পড়ুয়াকে লাগাতার হেনস্থা করা হতো এবং তাঁকে জাতিগত বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছিল। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হস্টেলের একটি ঘর থেকে ওই পড়ুয়ার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই ক্যাম্পাসে একটি পরীক্ষা চলাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন রাখার অভিযোগ তুলেছিলেন খোদ অধ্যাপক দুল্লা।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গত প্রায় তিন মাস ধরে অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা ওই পড়ুয়াকে তাঁর জাতিগত পরিচয় নিয়ে কটূক্তি ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ ধারা অর্থাৎ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা রুজু করার পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও উপজাতি (নির্যাতন প্রতিরোধ) আইনের একাধিক ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।

আইআইটি বোম্বে সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। পাওয়ার সিস্টেম ও পাওয়ার ইলেকট্রনিক্সের গবেষক হিসেবে তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ার রয়েছে। তিনি আইআইটি দিল্লি থেকে পিএইচডি এবং আইআইটি বোম্বে থেকে এমটেক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা জাতিগত হেনস্থা এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার মতো গুরুতর অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত শুরু করেছে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। প্রয়োজনে অধ্যাপক দুল্লা ও অন্যান্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

Aditi Banik
  • Aditi Banik