আইনি জটিলতার বড় ধাক্কা কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তি! ১০৮ বছরে পা দিয়ে কোন চমক আনছে বাগবাজার সর্বজনীন?

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর হাত ধরে কলকাতার দুর্গোৎসবের মানচিত্রে যে পুজোর আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল, শতবর্ষ পেরিয়েও তার ঐতিহ্য ও কৌলিন্য আজও অটুট। তবে চলতি বছর আইনি জটিলতার জেরে ঐতিহাসিক বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে একটা বড় ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল শহরজুড়ে। সমস্ত আইনি বাধা কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে শুরু হয়ে গেল পুজোর মূল প্রস্তুতি। শুক্রবার কড়া নিরাপত্তার ও উৎসাহের মধ্যে দিয়ে খুঁটি ও কাঠামো পুজোর মধ্য দিয়ে ১০৮ বছরে পদার্পণ করল বাগবাজারের এই মেগা পুজো।

আইনি জটে দেরি, এবার যুদ্ধকালীন তৎপরতা

আইনি জটিলতার কারণে এ বছর পুজোর প্রাথমিক প্রস্তুতিতে কিছুটা হলেও পিছিয়ে পড়তে হয়েছিল কমিটিকে। ফলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক কম সময়ে কাজ শেষ করতে হচ্ছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।

পুজো কমিটির সম্পাদক গৌতম নিয়োগী জানান, “প্রতি বছরই নিয়ম মেনে খুঁটি পুজো হয়। তবে এ বার আইনি জটিলতার জেরে সাধারণ মানুষের মনেও একটা বড় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। সেই সমস্ত মেঘ কেটে যাওয়ার পর আমরা নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সমস্ত কাজ শেষ করে ফেলব।”

ঐতিহ্যের সাবেকি প্রতিমা ও মণ্ডপের নতুন চমক

থিমের ইঁদুরদৌড়ে না হেঁটে শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য বজায় রাখাই বাগবাজারের প্রধান ইউএসপি। চলতি বছরেও তার কোনো ব্যত্যয় ঘটছে না।

  • একচালার ঐতিহ্য: এ বছরও প্রায় ২৮ ফুট উচ্চতার সুবিশাল একচালার প্রতিমাই এই পুজোর মূল আকর্ষণ। শিল্পী নারায়ণ পালের হাতে তৈরি হচ্ছে এই প্রতিমা, যার বংশপরম্পরাও এই পুজোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

  • মণ্ডপে নতুন ভাবনা: প্রতিমার রূপে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা না হলেও মণ্ডপ সজ্জায় থাকছে চমক। এ বছর বাগবাজারের মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে আমেরিকার নিউ জার্সির বিখ্যাত স্বামীনারায়ণ মন্দিরের আদলে।

পুরনো দিনের সমস্ত রীতিনীতি অপরিবর্তিত

বাগবাজারের পুজো মানেই শুধু মণ্ডপ আর প্রতিমা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একগুচ্ছ আবেগ ও পুরনো দিনের নিটোল সংস্কৃতি। পঞ্চমীর দিন দরিদ্র মানুষের হাতে বস্ত্র বিতরণ থেকে শুরু করে অষ্টমীর ঐতিহ্যবাহী লাঠি ও ছোঁড়া খেলা এবং দশমীর বর্ণময় সিঁদুরখেলা— সমস্ত চেনা ছবিগুলোই এবার ফিরে আসছে আপন মহিমায়।

মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী থেকে শুরু করে পাড়ার সাধারণ মানুষ— সকলেরই একটাই মত, থিমের এই যুগে দাঁড়িয়ে মা দুর্গার আসল রূপ যদি কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়, তবে তা কেবল এই বাগবাজারেই। আইনি জট কাটিয়ে সমস্ত বাধা পেরিয়ে এখন শুধু মা দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার অপেক্ষা।