রেকর্ড ভাঙতে চলেছে সোনা! ১০ গ্রামের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে? জেনে নিন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের বিরাট ভবিষ্যদ্বাণী

আপনি কি সোনায় বিনিয়োগের কথা ভাবছেন বা ঘরে গয়না কিনে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে? তবে আন্তর্জাতিক বাজার বিশেষজ্ঞদের এই পূর্বাভাস আপনার চোখ কপালে তুলতে পারে। বিশ্বখ্যাত আর্থিক সংস্থা জেপি মরগান (JP Morgan) এবং জেফারিস (Jefferies)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্ববাজারে হলুদ ধাতুর দাম এক অভূতপূর্ব রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, বর্তমান দামের তুলনায় সোনা আরও বিপুল হারে মহার্ঘ হতে চলেছে।
জেপি মরগানের পূর্বাভাস: ৫,০০০ ডলার ছোঁবে সোনা!
মার্কিন ফাইন্যান্সিয়াল জায়ান্ট জেপি মরগান জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে আগামী ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই প্রতি আউন্স সোনার দাম স্পর্শ করতে পারে ৫,০০০ ডলার (মার্কিন ডলার)।
২০২৬ সালের লক্ষ্যমাত্রা: ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সোনার দর আউন্স প্রতি ৪,৫০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
২০২৭ সালের মাঝামাঝি: দর বেড়ে হতে পারে আউন্স প্রতি ৫,০০০ ডলার।
আন্তর্জাতিক বাজারে আগস্ট মাসে সোনা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছালেও সেপ্টেম্বর মাসে সাময়িক কিছুটা পতন দেখা গিয়েছিল। বিশ্ব সোনা পরিষদ বা ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (WGC) তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে কমেক্সে (Comex) সোনার দাম কিছুটা কমে ৪,৪০০ ডলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। ভারতেও এমসিএক্স (MCX) সূচকে ১০ গ্রাম ২৪-ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৪,২৬৩ টাকা ছুঁয়ে ফেলেছিল। কিন্তু এটি শুধুই ঝড়ের আগের শান্ত পরিবেশ বলেই মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
জেফারিসের অবিশ্বাস্য দাবি: দাম বাড়বে ১৩০ শতাংশ!
জেপি মরগানের পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ সংস্থা জেফারিস। জেফারিসের ‘গ্লোবাল হেড অফ ইকুইটি স্ট্র্যাটেজি’ ক্রিস উড দাবি করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে সোনার দাম বর্তমান মাত্রা থেকে দ্বিগুণ বা ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১০,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে!
কেন হু-হু করে বাড়ছে সোনার দাম?
অর্থনীতিবিদদের মতে, সোনার দামের এই অবিশ্বাস্য গতির পেছনে একাধিক শক্তিশালী কারণ সক্রিয় রয়েছে:
১. কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনার হিড়িক: চীনসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের রিজার্ভে রেকর্ড পরিমাণে সোনা জমাচ্ছে। ২. মার্কিন ডলার ও সরকারি ঋণের চাপ: যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ঋণের বিশাল চাপ এবং ডলারের মান কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা বিকল্প নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন। ৩. ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা: বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় সোনাকে সেরা ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ বিনিয়োগ ক্ষেত্র মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় বাজারে কী প্রভাব পড়বে?
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আউন্স প্রতি ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ ডলারে পৌঁছালে ভারতীয় বাজারে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে বাধ্য। ভারতে সোনার মূল্য কেবল আন্তর্জাতিক দরের ওপর নয়, বরং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় মূল্য, আমদানি শুল্ক (Import Duty) এবং স্থানীয় উৎসব ও বিয়ের মরসুমের চাহিদার ওপর নির্ভর করে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই পূর্বাভাস সত্যি হলে ভারতেও ১০ গ্রাম সোনার দাম বর্তমান স্তর থেকে অনেক উঁচুতে উঠে যাবে।
(বি.দ্র.: এটি বাজার বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার পূর্বাভাস মাত্র। সোনা বা যেকোনো অ্যাসেটে বিনিয়োগ করার পূর্বে নিজের আর্থিক উপদেষ্টা বা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়া জরুরি।)