জোড়াফুল খসেছে, এবার কি চুপসে যাবে নতুন ফুটবলও? মমতাকে নিয়ে বোমা ফাটালেন হিমন্ত!

পশ্চিমবঙ্গ সফর শেষ করে গুয়াহাটি ফিরতেই রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়িয়ে চরম বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হিমন্ত সরাসরি দাবি করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ হয়ে গিয়েছেন। রাজনীতিতে আর ওঁর ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। ওঁকে এবার ভুলে যান। মমতাকে নিয়ে চিন্তা করলে শুধু রক্তচাপ বাড়বে, আর কিছু লাভ হবে না।” পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, “এখন শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে মূল উন্নয়ন করবেন, আর মমতা ঘরে বসে বসে দেখবেন কীভাবে কাজ করতে হয়।”

তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক চিহ্ন নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ফ্রিজ হওয়ার পর নতুন প্রতীক ‘ফুটবল’ বেছে নেওয়া নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সাফ কথা, “জোড়াফুল তো ইতিমধ্যেই ঝরে গিয়েছে। অপেক্ষা করুন, দু’দিন পর ফুটবলটাও পুরো চুপসে যাবে। ওখান থেকে হাওয়া বেরিয়ে গেলে আর কিচ্ছু অবশিষ্ট থাকবে না। মমতাকে আর কোথাও দেখতে পাওয়া যাবে না।”

অন্য দিকে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী প্রত্যাহার করে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন জানালেও, পুরনো একটি মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে মিলনকে। কংগ্রেস এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ‘গণতন্ত্রের হত্যা’ বলে দাবি করলেও তার কড়া জবাব দিয়েছেন হিমন্ত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “অপরাধের রেকর্ড থাকা একজনকে কীভাবে প্রার্থী করা হলো? ২০০৭ সালে যার বিরুদ্ধে জোড়া-তিনটি খুনের মামলা ছিল, তাকে রাহুল গান্ধী কি খুনের লাইসেন্স দিয়েছিলেন? আইন তার নিজের পথেই হেঁটেছে এবং পুলিশ সঠিক কাজ করেছে।”

এখানেই থামেননি তিনি। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে হিমন্ত বলেন, “রাহুল গান্ধী সম্পূর্ণ উন্মাদ। টিভিতে, দেশে বা বিদেশে ওঁকে দেখলেই আমার হাসি পায়।”

কলকাতা সফরের পর গুয়াহাটিতে বসে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই একযোগে আক্রমণ রাজ্য তো বটেই, জাতীয় রাজনীতিতেও চরম শোরগোল ফেলে দিয়েছে।