৩০০০ কোটির ব্যবসা করলেও অস্কার থেকে ছাঁটাই! রণবীরের ‘ধুরন্ধর’-কে হারিয়ে ভারতের বাজি মারাঠি ছবি ‘গোন্ধল’

৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কার ২০২৭-এর জন্য ভারতের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন হিসেবে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘গোন্ধল’-এর নাম ঘোষণা হতেই তোলপাড় বিনোদন জগৎ। একদিকে যখন রণবীর সিং অভিনীত ও আদিত্য ধর পরিচালিত ব্লকবাস্টার ‘ধুরন্ধর’ বিশ্বজুড়ে বক্স অফিস কাঁপিয়ে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করেছে, তখন অন্যদিকে কীভাবে এক আঞ্চলিক ছবি তাকে টেক্কা দিল—তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অবশেষে সেই বড় রহস্যের পর্দা উন্মোচন করলেন ‘ফিল্ম ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া’-র (FFI) জুরি সদস্য বিবেক ভাসওয়ানি।
“ধুরন্ধর অস্কারের উপযুক্ত নয়!”— বিস্ফোরক জুরি সদস্য
এক সাক্ষাৎকারে জুরি সদস্য বিবেক ভাসওয়ানি স্পষ্ট জানান যে, নির্বাচন চলাকালীন জুরিদের সামনে ‘ধুরন্ধর’ ছবিটি নিয়ে আলোচনা হলেও তা অস্কারের মঞ্চে পাঠানোর যোগ্য মনে হয়নি।
বিবেকের কথায়, “কয়েকজন জুরি সদস্য সিনেমাটি পছন্দ করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু জুরিদের সার্বিক মত ছিল—অস্কারের মঞ্চে ভারতীয় সংস্কৃতি ও তার মৌলিক শিকড় যেভাবে ফুটে ওঠা উচিত, ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে সেই প্রতিফলন ছিল না।”
১৪ জন সদস্যের জুরি বোর্ডে রণবীর সিংয়ের এই মেগা বাজেট ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কতগুলো ভোট পেয়েছিল? বিবেক জানান, ১৪ জনের মধ্যে মাত্র ৪ জন সদস্য ‘ধুরন্ধর’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
৩৩টি ছবিকে টেক্কা দিয়ে সেরার মুকুট ‘গোন্ধল’-এর মাথায়
এবারের অস্কারের দৌড়ে ভারত থেকে মোট ৩৩টি সিনেমা লড়াইয়ে ছিল। যার মধ্যে ১৪টি হিন্দি, ৪টি মারাঠি, ৪টি তেলুগু, ৩টি গুজরাতি, ৩টি তামিল, ১টি মালয়ালম, ১টি নেপালি এবং নাগাল্যান্ডের ১টি ছবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কড়া টক্করের পর জুরি বোর্ডের চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নেয় তিনটি ছবি— ‘গোন্ধল’, ‘অং’ এবং ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’। অবশেষে সাংস্কৃতিক উপস্থাপন ও শৈল্পিক উৎকর্ষের বিচারে সর্বসম্মতিক্রমে মারাঠি ছবি ‘গোন্ধল’-কেই অস্কার ২০২৭-এর জন্য ভারতের অফিশিয়াল এন্ট্রি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।
কী রয়েছে ‘গোন্ধল’ ছবির গল্পে?
সন্তোষ দাভখর পরিচালিত ও রচিত ‘গোন্ধল’ একটি টানটান থ্রিলার সিনেমা। ছবিটির পটভূমি গড়ে উঠেছে মহারাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী মধ্যরাত্রির লোক-উৎসব ও বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে, যার নামানুসারেই এই সিনেমার নামকরণ।
ছবিটিতে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় সংস্কৃতির যে নিখুঁত ও জীবন্ত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা একবাক্যে মুগ্ধ করেছে বিচারকদের। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত ৫৬তম ভারতের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (IFFI) এই ছবির জন্যই সেরা পরিচালকের ‘সিলভার পিকক’ সম্মান পেয়েছিলেন সন্তোষ দাভখর। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন কিশোর কদম, ঈশিতা দেশমুখ, যোগেশ সোহনি, নিষাদ ভৈর এবং অনুজ প্রভু। সুরসংযোজন করেছেন কিংবদন্তি সঙ্গীত পরিচালক ইলাইয়ারাজা।
অন্যদিকে, আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম পর্ব ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে এবং দ্বিতীয় পর্ব ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ২০২৬ সালের মার্চে মুক্তি পেয়ে বিশ্বব্যাপী বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য পেলেও, শেষ পর্যন্ত অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের আঙিনায় বাজিমাত করল এক আঞ্চলিক মাটির গল্পই।