২০০০ টাকার বেশি পেমেন্টেই বড়সড় বদল! ব্যাংকের পকেটে ঢুকবে হাজার হাজার কোটি টাকা?

প্রতিদিনের চায়ের কাপ থেকে শুরু করে শপিংমলের বিল—ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট ছাড়া আমাদের জীবন এখন একপ্রকার অসম্ভব। পকেট থেকে খুচরো টাকা বা ক্যাশ বের করার দিন শেষ করে ইউপিআই এখন লেনদেনের মুকুটহীন সম্রাট। তবে সম্প্রতি এই ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। মাত্র ২০ টাকার একটি সাধারণ পেমেন্ট ফি কীভাবে আগামী দিনে ২২,০০০ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আয়ের পথ তৈরি করতে পারে, তার একটি চাঞ্চল্যকর ও বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করেছে বিশ্বখ্যাত আর্থিক সংস্থা ‘বার্নস্টাইন’।

বিনামূল্যে পেমেন্টের মাঝে নতুন সমীকরণ

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ২,০০০ টাকার কম অঙ্কের ইউপিআই লেনদেন এবং রুপে (RuPay) ডেবিট কার্ডের পেমেন্ট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রাখা হবে। সাধারণ গ্রাহক বা ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি (P2P) লেনদেনে কোনো অতিরিক্ত চার্জ লাগবে না।

কিন্তু আসল খেলাটা লুকিয়ে রয়েছে উচ্চমূল্যের বা বড় অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রে। বার্নস্টাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২,০০০ টাকার বেশি অংকের লেনদেন মোট ইউপিআই ট্রানজ্যাকশনের মাত্র ৪ শতাংশ হলেও, তা মোট লেনদেনের অর্থমূল্যের প্রায় ৭০ শতাংশ দখল করে আছে। আর এখানেই এমডিআর (MDR) বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট চালুর মাধ্যমে বিপুল আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

কীভাবে তৈরি হবে ২২,০০০ কোটির তহবিল? হিসাবটি একনজরে:

  • শতাংশের অঙ্ক: বার্নস্টাইনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ অর্থবর্ষের মধ্যে যদি মোট লেনদেন মূল্যের অর্ধেকের ওপর ৪০ বেসিস-পয়েন্টের (bps) এমডিআর ধার্য করা হয়, তবে বিশাল অংকের রাজস্ব আদায় সম্ভব।

  • ২০ টাকার জাদুকরী ফি: ধরা যাক, কোনো একটি লেনদেনের গড় মূল্য ৫,০০০ টাকা। তার ওপর ৪০ বেসিস পয়েন্ট বা ০.৪০ শতাংশ চার্জ বসালে ফি দাঁড়ায় মাত্র ২০ টাকা। এই সামান্য ২০ টাকার ট্রানজ্যাকশন ফি থেকেই সারা দেশে বছরে প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকার কোষাগার গড়ে উঠতে পারে।

  • টাকা ভাগ হবে কার কার পকেটে? এই সম্ভাব্য ২২,০০০ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব থেকে সিংহভাগ অংশ পাবে ব্যাংক এবং পেমেন্ট অ্যাপগুলো। হিসাব বলছে, এর মধ্যে ব্যাংকগুলোর ঝুলিতে ঢুকতে পারে প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন পেমেন্ট অ্যাপ বা থার্ড-পার্টি প্ল্যাটফর্মগুলো পেতে পারে প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা। বাকি অংশ যাবে পেমেন্ট নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য সহযোগীদের কাছে।

ইউপিআই-এর অপ্রতিরোধ্য গতি

বর্তমানে ভারতের মোট মার্চেন্ট পেমেন্টের প্রায় ৭৮ শতাংশই সম্পন্ন হয় ইউপিআইয়ের মাধ্যমে। ক্যাশ লেনদেন কমানো এবং এটিএম ব্যবহারের খরচ বাঁচানোর ক্ষেত্রে এটি বিপ্লব এনেছে। তবে পরিকাঠামো টিকিয়ে রাখতে এবং ব্যাংক ও পেমেন্ট অ্যাপগুলোর বিশাল বিনিয়োগের খরচ তুলতে এমডিআর চালুর বিষয়টি নিয়ে ফিনান্সিয়াল মহলে দীর্ঘ দিন ধরেই আলোচনা চলছে। সরকারের তরফ থেকে ছোট লেনদেনগুলো সুরক্ষিত রাখা হলেও, বড় বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই নতুন আর্থিক মডেল ডিজিটাল পেমেন্ট দুনিয়ায় এক বিরাট পরিবর্তন আনতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Aditi Banik
  • Aditi Banik