কলিংবেল বাজতেই ধড়ফড়িয়ে ঘুম ভাঙল, দরজায় পুলিশ দেখে ডনের হাঁটু কাঁপাকাঁপি! জালনধরে রোমাঞ্চকর কাণ্ড

অবৈধ দখলদারি ও বেআইনি নির্মাণ উচ্ছেদ করতে গিয়ে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল পাঞ্জাব পুলিশ ও জালনধর পুরনিগম। মঙ্গলবার সকালে জালনধরের মিঠু বস্তি এলাকায় বেআইনি বাড়ি ভাঙতে গিয়েছিলেন পুরনিগমের আধিকারিকেরা। কিন্তু বাড়ির দরজায় কলিংবেল বাজাতেই ঘরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন পাঞ্জাবের কুখ্যাত মাদক পাচারকারী ও একাধিক অপরাধের অভিযুক্ত বিক্রম সিং ওরফে ‘লক্কি’। চোখ ডলতে ডলতে দরজা খুলেই সামনে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও ক্যামেরা দেখে থ বনে যায় সে। এমনকি প্রাণ বাঁচাতে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থানার এসএইচও-র পা ছুঁয়ে ক্ষমা চাইতে শুরু করে ওই অপরাধী।
সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় এই পুরো ঘটনার দৃশ্য মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
নোটিশ উড়িয়েই চলছিল বেআইনি নির্মাণ
পুরনিগম সূত্রের খবর, মিঠু বস্তির ১০২৬ নম্বর বাড়ির মালিক বিক্রম সিং লক্কিকে আগেই অবৈধ দখলের বিষয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। সরকারি নোটিশের কোনো সন্তোষজনক জবাব বা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে উচ্ছেদ অভিযানে নামে প্রশাসন। জালনধর পুরনিগমের দল যাতে কোনো বাধার মুখে না পড়ে, তাই সুরক্ষার জন্য সঙ্গে পাঠানো হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী।
এসিপি আতিশ ভাটিয়া এবং এসএইচও নরেন্দ্রর নেতৃত্বে সকাল ১১টা নাগাদ পুলিশ টিম লক্কির বাড়িতে পৌঁছায়। এক মহিলা কনস্টেবল দরজার বেল বাজাতেই ঘুমন্ত অবস্থাতেই বাইরে বেরিয়ে আসে লক্কি।
১২টি মামলার আসামী, ছিল জামিনে মুক্ত
পুলিশ আধিকারিকরা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া বিক্রম সিং ওরফে লক্কি কোনো সাধারণ ব্যক্তি নয়, সে এলাকার একজন দাগি অপরাধী। তার বিরুদ্ধে এনডিপিএস (মাদক আইন), মারামারি এবং এক্সাইজ অ্যাক্টসহ অন্তত ১২টি গুরুতর অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। এতদিন সে জামিনে বাইরে ঘুরে বাড়াচ্ছিল।
ডিসিবি আদিত্য ওয়ারিয়ার জানিয়েছেন, “পুরনিগমের আবেদনের ভিত্তিতেই পুলিশ টিম সেখানে গিয়েছিল। তবে তার অপরাধের রেকর্ড খতিয়ে দেখে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাকে সঙ্গে সঙ্গে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল বুলডোজার
অভিযুক্ত লক্কিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পর পুরনিগমের টিম বুলডোজার চালিয়ে তার বাড়ির অবৈধ অংশটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। এর পাশাপাশি তার বাড়িতে কোনো গোপন মাদকের আস্তানা আছে কিনা তা তল্লাশি করে দেখছে পুলিশ। কোনো নতুন প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে।