মাছের বাজারেই লুকিয়ে রয়েছে মারাত্মক ক্যানসারের বিষ! ফরমালিন চেনার এই সহজ কৌশলগুলো না জানলে বড় বিপদে পড়বেন

বাঙালির পাতে মাছ না থাকলে যেন আহারই সম্পূর্ণ হয় না। কিন্তু এই প্রিয় খাদ্যটিই এখন অনেক সময় স্বাস্থ্যের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মাছকে দীর্ঘদিন তাজা দেখাতে এবং পচন রোধ করতে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ব্যবহার করছেন মারাত্মক রাসায়নিক ‘ফরমালিন’। শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত এই ক্ষতিকর রাসায়নিক মানবদেহে প্রবেশ করলে পেটের জটিল রোগ, লিভার ও কিডনির ক্ষতি থেকে শুরু করে ক্যানসারের মতো মারাত্মক ব্যাধি ডেকে আনতে পারে। তবে কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে বাজারেই ফরমালিনযুক্ত মাছ চেনা সম্ভব এবং ঘরে এনেও তা রাসায়নিক মুক্ত করা যায়।

বাজারে যেভাবে চিনবেন ফরমালিনযুক্ত মাছ

  • চোখ: তাজা মাছের চোখ লালচে বা কালচে স্বচ্ছ এবং উজ্জ্বল দেখায়। কিন্তু ফরমালিন দেওয়া মাছের চোখ ঘোলাটে, ভেতরের দিকে বসে যাওয়া বা সাদাটে হয়ে যায়।

  • ফুলকো: তাজা মাছের ফুলকো থাকে টকটকে লাল ও আর্দ্র, পক্ষান্তরে ফরমালিনযুক্ত মাছের ফুলকো শুকনো, কালচে বা ধূসর রঙের হয়।

  • গন্ধ ও মাছি: ফরমালিন মেশানো মাছে আঁশটে গন্ধের বদলে তীব্র ঝাঁঝালো রাসায়নিকের গন্ধ পাওয়া যায় এবং তাতে মাছি বা পোকা বসে না।

  • শরীরের গঠন: তাজা মাছে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে তা দ্রুত স্বাভাবিক হয়, কিন্তু ফরমালিনযুক্ত মাছের শরীর অতিরিক্ত শক্ত বা আঙুলের ছাপ বসে যাওয়ার মতো হয়ে যায়।

ঘরোয়া উপায়ে যেভাবে মাছ ফরমালিন মুক্ত করবেন

১. লবণ জল: মাছ কাটার পর পরিষ্কার জলে ধুয়ে প্রতি লিটার জলে দুই টেবিল চামচ লবণ মিশিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এটি ফরমালিন দ্রুত টেনে বের করে আনে। ২. ভিনেগার বা লেবুর রস: এক লিটার জলে এক কাপ ভিনেগার বা আধ কাপ লেবুর রস মিশিয়ে মাছ ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে ফরমালিনের রাসায়নিক গঠন নষ্ট হয়। ৩. চাল ধোয়া জল: চাল ধোয়া জলে সামান্য লবণ মিশিয়ে মাছ ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখলেও ফরমালিন সহজে দূর হয়। ৪. গরম জল: রান্নার আগে হালকা গরম জল দিয়ে মাছ দু-তিনবার ভালো করে ধুয়ে নিলে ফরমালিনের মাত্রা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

সচেতনতাই ফরমালিন বিষক্রিয়া থেকে বাঁচার একমাত্র চাবিকাঠি। তাই মাছ কেনার সময় চোখ, ফুলকো ও গন্ধ পরীক্ষা করে তা সঠিকভাবে রাসায়নিক মুক্ত করে রান্না করাই স্বাস্থ্য সুরক্ষার একমাত্র উপায়।