কোটি কোটি টাকার জমি হাতানোর পর্দাফাঁস! সিআইডির চার্জশিটে সুমিত-সুজয়ের দুর্নীতির কোন রমহর্ষক কায়দা সামনে এল?

শালবনির শত শত একর সরকারি জমি জালিয়াতি এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের মামলায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে নিয়ে এল সিআইডি (CID)। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে গ্রেফতারের পর মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা সিআইডির চার্জশিটে এই জমি দুর্নীতির নেপথ্যে থাকা চক্রের ভয়ংকর ‘মোডাস অপারেন্ডি’ বা কাজের কায়দা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

সিআইডির চার্জশিট অনুযায়ী, কীভাবে কাজ করত এই সুমিত রায় ও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার চক্র? তদন্তকারীদের হাতে উঠে এসেছে একাধিক বিস্ফোরক নথি ও তথ্য।

যেভাবে চলত জমি হাতানোর ছক:

  • উদ্বাস্তুদের জমি টার্গেট: ১৯৭১ সালে চাষবাসের জন্য যেসব সরকারি জমি দরিদ্র ও উদ্বাস্তু মানুষদের দেওয়া হয়েছিল, ২০২১ সাল থেকে সেগুলিকে নিশানা করা হয়। সরকারি জমিকে জোরপূর্বক ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বলে দাবি করতে শুরু করে চক্রটি।

  • ভুয়া মালিক ও জাল নথি: বহু অসহায় মানুষকে ভয় দেখিয়ে জমি খালি করতে বাধ্য করা হয়। এরপর তৈরি করা হতো জাল নথি। চুক্তিপত্রে জমি যাঁদের নামে দেখানো হয়েছে, সিআইডি তদন্তে দেখেছে বাস্তবে সেই ঠিকানায় তেমন কোনো ব্যক্তির অস্তিত্বই নেই!

  • সুমিতের দফতরে পৌঁছাত দুর্নীতির টাকা: চার্জশিটে সিআইডি দাবি করেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে উপার্জিত সেই দুর্নীতির টাকার বড় অংশ পৌঁছে দেওয়া হতো সুমিত রায়ের দফতরে। আর এই টাকা পৌঁছে দেওয়ার কাজটি সামলাতেন সুজয় হাজরা।

২০ জন সাক্ষীর বয়ানে ফাঁদে সুমিত-সুজয়:

এই মেগা জালিয়াতির কিনারা করতে সিআইডির পেশ করা চার্জশিটে মোট ২০ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২ জন প্রাক্তন পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার (PSO) এবং সুজয় হাজরার গাড়ির চালকের বয়ান।

তদন্তকারীদের সামনে বয়ান দিতে গিয়ে এই সাক্ষীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দুর্নীতির কোটি কোটি টাকার লেনদেন সরাসরি সুমিত রায়ের কাছে পৌঁছে যেত। এ ছাড়া, দুজন ব্যবসায়ীও সিআইডিকে নিশ্চিত করেছেন যে তাঁরা সুমিত ও সুজয়ের মধ্যে টাকার লেনদেন নিজের চোখে দেখেছেন, কিন্তু প্রাণভয়ে এতদিন মুখ খুলতে সাহস পাননি।

শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান ও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সাক্ষ্যও গ্রহণ করেছে সিআইডি। শীর্ষ আদালতের কাছে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হতেই সিআইডি-র এই কঠোর পদক্ষেপ এবং বিস্ফোরক চার্জশিট জমা পড়া— সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।