দুর্গাপুজোর আগেই তিলোত্তমায় বিরাট চমক! বদলে যাচ্ছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কুমোরটুলি ঘাট

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আর এক মাসও বাকি নেই। কাশের বন আর ঢাকের বাদ্যি বাজার আগেই প্রতিমার মাটির গন্ধে ম ম করছে উত্তর কলকাতার গলিঘুঁজি। তবে এবারের পুজোয় কুমোরটুলির চেনা ছবিতে আসতে চলেছে এক ঐতিহাসিক বদল। শুধু মৃৎশিল্পীদের কারিগরি নয়, এবার হেরিটেজ ট্যুরিজমের একেবারে নতুন এক ঠিকানা পেতে চলেছে শহর কলকাতা।
কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের জমিতে আদানি গোষ্ঠীর সামাজিক দায়বদ্ধতা ও হেরিটেজ সংরক্ষণের আওতায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে কুমারটুলি ঘাট। কুমারটুলি থেকে চাঁপাতলা ঘাট পর্যন্ত হুগলি নদীর ৩০০ মিটার বিস্তীর্ণ পাড়জুড়ে এখন চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সৌন্দর্যায়নের কাজ।
ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন উত্তর কলকাতার এই এলাকা শুধুই একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, এটি প্রতিটি বাঙালির আবেগের জায়গা। প্রতি বছর পুজো আসার ঠিক মুখে দেশ-বিদেশের বহু আলোকচিত্রী, পর্যটক ও শিল্পপ্রেমীরা এখানে ভিড় জমান। তবে গঙ্গার পাড়ে উপযুক্ত পরিকাঠামো ও আধুনিক সুবিধার অভাব দীর্ঘদিনের। সেই অভাব পূরণ করতেই গত দু’মাস ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে সংস্কার কাজ।
কী কী থাকছে নতুন রিভারফ্রন্ট স্পটে?
সবুজ পার্ক ও বসার জায়গা: নদীর মনোরম হাওয়া উপভোগ করার জন্য তৈরি হচ্ছে সাজানো-গোছানো বাঁধানো ঘাট ও নান্দনিক পার্ক।
ফুড কোর্ট ও ক্যাফেটেরিয়া: গঙ্গার তীরে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে আড্ডা জমানোর জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে আধুনিক ফুড কোর্ট ও ক্যাফে।
হেরিটেজ সংস্কার: সুতানুটি ফাঁড়িসহ প্রাচীন পুলিশ আউটপোস্ট এবং স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী মন্দিরগুলোর মৌলিক রূপ বজায় রেখে সংস্কার করা হচ্ছে।
নাগরিক সুবিধা: দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক টয়লেট ব্লক।
কবে হবে শুভ উদ্বোধন? প্রশাসন ও বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর এই নবসজ্জিত হেরিটেজ ঘাটের শুভ উদ্বোধন হতে পারে। আর এই বিশেষ দিনটিকে ঐতিহাসিক করে তুলতে অনুষ্ঠানে সশরীরে হাজির থাকতে পারেন আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি স্বয়ং।
প্রতিমা গড়ার আঁতুড়ঘর কুমারটুলি ঘাট এবার গঙ্গার তীরে তিলোত্তমার অন্যতম সেরা ট্যুরিস্ট গন্তব্য হয়ে উঠতে চলেছে। দুর্গাপুজোর ঠিক মুখে শহরের মানুষের কাছে এই নতুন রিভারফ্রন্ট কতটা আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়, এখন সেটাই দেখার।