পিরিয়ডের ব্যথায় বমি বমি ভাব? হরমোনের মারণ খেলায় কাবু শরীর! জেনে নিন মুক্তির মোক্ষম উপায়!

মহিলাদের জীবনের একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক জৈবিক প্রক্রিয়া হলো ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড। কিন্তু এই নির্দিষ্ট দিনগুলিতে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের কারণে বহু নারীকেই তীব্র যন্ত্রণার মুখোমুখি হতে হয়। পেট ব্যথা, কোমর যন্ত্রণা এবং মেজাজ পরিবর্তনের পাশাপাশি অনেকের ক্ষেত্রেই একটি অত্যন্ত সাধারণ অথচ অস্বস্তিকর সমস্যা দেখা দেয়, তা হলো বমি বমি ভাব বা গা গোলানো। মাসিকের সময় শরীরের ভেতরে চলা হরমোনের দ্রুত পরিবর্তন এবং তার প্রভাবে পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটার ফলেই মূলত এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিয়ে থাকে। মাসের পর মাস এই কষ্ট সহ্য করতে করতে অনেকেই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, কিন্তু সামান্য কিছু জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও সচেতনতা অবলম্বন করলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, পিরিয়ডের সময় শরীরে ‘প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন’ নামক হরমোনের মাত্রা হঠাৎ করে অনেক বেশি বেড়ে যায়। এই হরমোনটি জরায়ুর সংকোচন ঘটিয়ে রক্তপাত স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করলেও, এর অতিরিক্ত প্রভাব অনেক সময় পেটের পেশিতে তীব্র টান এবং বমি ভাবের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যা মোকাবেলায় খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। একসাথে ভারী খাবার না খেয়ে সারাদিনে অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। আদা চা বা কাঁচা আদার রস এই বমি ভাব দূর করার ক্ষেত্রে জাদুর মতো কাজ করে। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা এবং শরীরকে হাইড্রেট রাখা মাসিকের অস্বস্তি কমাতে দারুণ সাহায্য করে।
এই সময়ে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এবং প্রসেসড ফাস্টফুড পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলি পেটের গোলমাল ও বমির অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডায়েটে তাজা ফল, শাকসবজি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। প্রয়োজনে হালকা স্ট্রেচিং বা যোগ ব্যায়াম করলে পেশির শিথিলতা বাড়ে এবং জরায়ুর ওপর চাপ কমে। যদি এই সমস্যা অতিরিক্ত মাত্রায় দেখা দেয় এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়, তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একটু সচেতনতা এবং সঠিক পরিচর্যাই ঋতুস্রাবের এই দিনগুলোকে করে তুলতে পারে অনেকটাই সহজ ও আরামদায়ক।