মুছে যাওয়া সাম্রাজ্যের রহস্যে ঘেরা কর্ণাটকের হাম্পি! এক নিমেষে আপনাকে টাইম মেশিনে করে নিয়ে যাবে ১৪ শতকে!

কর্ণাটকের তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে অবস্থিত হাম্পি প্রাচীন বিজয়নগর সাম্রাজ্যের এক গৌরবোজ্জ্বল ও সমৃদ্ধশালী রাজধানী ছিল। চতুর্দশ থেকে ষোড়শ শতাব্দীর সেই সোনালী দিনে এই শহরটি ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতির এক বিশাল কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত ছিল। বর্তমানে এখানে গেলে আপনি দেখতে পাবেন প্রাচীন বাজার, রাজপ্রাসাদ, ঐতিহাসিক মন্দির এবং বিশালাকার গ্রানাইট পাথরের চাদরে মোড়া এক রূপকথার জগত। ইতিহাসপ্রেমী এবং ভ্রমণপিপাসুদের কাছে হাম্পি একটি নিখুঁত গন্তব্য।

হাম্পিতে দেখার মতো বহু ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান আকর্ষণ হলো বিশ্বখ্যাত বিরূপাক্ষ মন্দির, যা ভগবান শিবকে উৎসর্গ করে নির্মিত হয়েছে। এছাড়া রয়েছে সুবিখ্যাত বিজয় বিট্টল মন্দির, যেখানে অবস্থিত সেই ঐতিহাসিক ‘স্টোন চ্যারিয়ট’ বা পাথরের তৈরি রথ—যা আমাদের দেশের ৫০ টাকার নোটে খোদাই করা রয়েছে। রথের অপূর্ব কারুশিল্প এবং সুনিপুণ গ্রানাইট খোদাই দর্শকদের মুগ্ধ করে। রাজকীয় স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে রয়েছে পদ্ম ফুলের আকৃতিতে তৈরি ‘লোটাস মহল’, হাতীদের থাকার জন্য প্রাচীন ‘হাফি আস্তাবল’, রানিদের স্নানাগার ‘কুইন বাথ’ এবং একক গ্রানাইট পাথরে তৈরি ৬.৭ মিটার উঁচু ‘উগ্র নরসিংহ মূর্তি’। হাম্পির প্যানোরামিক ভিউ দেখার জন্য ‘মাতঙ্গ হিল’ এবং ‘হেমেকুট হিল’ অত্যন্ত জনপ্রিয়, যেখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য দারুণ উপভোগ করা যায়।

ঐতিহাসিক স্মারক দেখার পাশাপাশি হাম্পিতে পর্যটকদের জন্য রয়েছে একাধিক রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারের সুযোগ। তুঙ্গভদ্রা নদীর বুকে প্রথাগত ‘কোড়াকল রাইড’ বা গোল নৌকো ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দারুণ। এছাড়া সাইকেল ভাড়া নিয়ে প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ ঘুরে দেখা, বিশাল গ্রানাইট পাথরে রক ক্লাইম্বিং বা বোল্ডারিং করার সুযোগ রয়েছে। তুঙ্গভদ্রা নদীর অপর পারে অবস্থিত ‘হিপ্পি আইল্যান্ড’ বা বিরূপাপুর গাড্ডে তরুণ পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। হাম্পির আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে তুঙ্গভদ্রা বাঁধ, পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্যযুক্ত গ্রাম ‘অানেগুন্ডি’ এবং ‘দারোজি স্লথ বেয়ার স্যাঙ্কচুয়ারি’ ঘুরে দেখার মতো সেরা জায়গা।

যাতায়াতের দিক থেকে হাম্পি অত্যন্ত সুগম। বিমানপথে যাতায়াত করতে চাইলে নিকটতম বিমানবন্দর হলো প্রায় ৪০ কিমি দূরে অবস্থিত জিন্দাল বিজয়নগর বিমানবন্দর, অথবা ব্যাঙ্গালোরের কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ট্রেনপথে যেতে চাইলে সবচেয়ে কাছে রয়েছে মাত্র ১৩ কিমি দূরে অবস্থিত হোসপেট জংশন। এছাড়া বেঙ্গালুরু বা আশেপাশের শহরগুলি থেকে সড়কপথে গাড়ি বা বাস ভাড়া করে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটারের দুর্দান্ত রোড ট্রিপ উপভোগ করতে করতে অনায়াসেই হাম্পি পৌঁছে যাওয়া যায়।