প্রধানমন্ত্রীর স্কুলের বন্ধু নাকি ৪ দশকের জমি জট! সুবিচার চেয়ে সোজা মোদির দরবারে ৮১ বছরের বৃদ্ধ

স্কুলের বেঞ্চে একসঙ্গে কাটানো শৈশব পার হয়ে বহু বছর কেটে গেছে। আজ তাঁদের একজন দেশের প্রধানমন্ত্রী, অন্যজন সাধারণ এক বৃদ্ধ। কিন্তু প্রায় চার দশকের পুরনো এক জমি জট পাকাতে সোজা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখোমুখি দাঁড়ালেন তাঁরই স্কুলজীবনের সহপাঠী আসগর আলি ভোরা। পুরনো বন্ধুর কাছে সুবিচার পাওয়ার আশায় শেষ পর্যন্ত সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মুম্বইয়ের এই ৮১ বছর বয়সি বাসিন্দা।
গুজরাতের ভাদনগরের বিএন হাইস্কুলে একসঙ্গে পড়াশোনা করতেন নরেন্দ্র মোদী ও আসগর আলি ভোরা। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের এই দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, ১৯৮৯ সালে একটি চুক্তির মাধ্যমে মুম্বইয়ের নিকটবর্তী ভাইন্দর ইস্টের নভঘর এলাকায় তিনি প্রায় ২ হাজার ৮১০ বর্গমিটার জমি কিনেছিলেন। কিন্তু ২০১১ সালে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে সেই জমি বেআইনিভাবে জবরদখল করা হয়।
ভোরার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, ‘স্বয়ম বিল্ডার্স’ এবং ‘সেভেন ইলেভেন কনস্ট্রাকশনস’ নামক দুটি সংস্থা আসল মালিককে অন্ধকারে রেখে জাল দলিল তৈরি করে জমিটি হাতিয়ে নিয়েছে। এই পুরো জালিয়াতিতে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক নরেন্দ্র মেহতার নামও জড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ২০১৫ সালে এ নিয়ে থানায় এফআইআর দায়ের হলেও পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারে ঘুরে কোনো সুরাহা মেলেনি। বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন থাকলেও, পুরনো বন্ধুর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ এবং সিবিআই তদন্তের দাবিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।