বিকল্প পথও বন্ধ! মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের অর্থনীতিতে গভীর আশঙ্কার মেঘ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ফের এক বিশাল ধস ও তীব্র সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ইরান-সংঘাতের জেরে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত, অন্যদিকে এবার সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ড্রোন হামলার মুখে পড়ে সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মন্দেব প্রণালীর কাছের কৌশলগত এলাকা ও দ্বীপগুলি দখল করে নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এর ফলে বিশ্বের প্রধান তেল সরবরাহ ব্যবস্থা একযোগে মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রকের সরকারি বিবৃতে জানানো হয়েছে যে, দেশের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১,২০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর ফলে সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ হিসেবে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রফতানির ক্ষেত্রে এই পাইপলাইনটি বিকল্প জীবনরেখা হিসেবে কাজ করত, যার মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহণ করা হতো। কিন্তু এই লাইনে আঘাত হানায় বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প পথটিও সঙ্কটের মুখে পড়ল। হরমুজের পাশাপাশি এবার চরম বিপদ ঘনীভূত হয়েছে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর সংযোগকারী বাব আল-মন্দেব প্রণালীতে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, হুথি বিদ্রোহীরা কৌশলগত পেরিম দ্বীপ এবং মোখা বন্দর এলাকা দখল করেছে। এই জলপথ দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা তীব্র হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং তেল সরবরাহ দুটোই ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে। ভারতের মতো বৃহৎ তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের। হরমুজ প্রণালীতে জট এবং সৌদির বিকল্প পাইপলাইন ও লোহিত সাগর রুট ঝুঁকির মুখে পড়ায় এশিয়ায় তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমধ্যেই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। জ্বালানির এই অগ্নিমূল্যের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের আমদানি খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং সর্বগ্রাসী মুদ্রাস্ফীতির উপর। ফলস্বরূপ, সাধারণ মানুষের অন্দরে পেট্রোল-ডিজেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির নতুন শঙ্কা দানা বেঁধেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক সুদূরপ্রসারী ও মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।