ব্রিকসে এন্ট্রি বন্ধ পাকিস্তানের! মোদির এক চালে জলে গেল শাহবাজের সব পরিকল্পনা?

ব্রিকস জোটে যোগদানের জন্য ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছিল পাকিস্তান। উদীয়মান অর্থনীতির এই শক্তিশালী জোটে বর্তমানে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি যুক্ত রয়েছে। এর ফলে এই জোটের পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ‘ব্রিকস প্লাস’-এ রূপ নিয়েছে। তবে ২০২৬ সালে এসেও ইসলামাবাদের সেই আবেদন এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর ফলাফল নিয়ে আসতে পারেনি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিকসের সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বসম্মতির নীতি অত্যন্ত কঠোরভাবে বজায় রাখা হয়। অর্থাৎ, জোটের যেকোনো একটি পূর্ণ সদস্য দেশের আপত্তিই নতুন কোনো দেশের অন্তর্ভুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। পাকিস্তানের এই সদস্যপদ আটকে যাওয়ার নেপথ্যে ভারতের শক্ত আপত্তিই মূল প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা। অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় দিক থেকেই এই জোটে যুক্ত হওয়ার প্রবল আগ্রহ রয়েছে পাকিস্তানের।

সাম্প্রতিক ‘পাকিস্তান ইকোনমিক সার্ভে’ অনুযায়ী, দেশটির জিডিপি বৃদ্ধির হার বর্তমানে ৩.৭০ শতাংশে আটকে রয়েছে। নির্মাণ কাজ, নতুন বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অর্থসাহায্যের ক্ষেত্রে বিকল্প পথ খুঁজে পেতেই ইসলামাবাদ মরিয়া হয়ে এই জোটে প্রবেশ করতে চাইছে। ব্রিকস পরিচালিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে সহজ শর্তে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করাও পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম ‘নিক্কেই এশিয়া’-র এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ব্রিকস-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কে প্রায় ৫৮০ মিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্ব কিনেছে পাকিস্তান।

বিশ্বব্যাঙ্ক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ-এর (IMF) ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে অর্থ সংগ্রহের নতুন উৎস তৈরি করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। বর্তমান সময়ে ব্রিকস গ্লোবাল সাউথের অন্যতম প্রধান এবং প্রভাবশালী মঞ্চ হিসেবে নিজেদের বৈশ্বিক অবস্থান শক্ত করেছে। সম্প্রসারণের পর এই জোটটি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপি (PPP) হিসাব অনুযায়ী বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে।

২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তৎকালীন মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ এই জোটটিকে উন্নয়নশীল দেশগুলির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, ব্রিকসের অধিকাংশ সদস্য দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের অত্যন্ত সুদৃঢ় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই জোটে জায়গা পেলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে পাকিস্তান জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবে বলে ইসলামাবাদ আশাবাদী ছিল।

রাশিয়ার মাটিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত মহম্মদ খালিদ জামালি রুশ সংবাদ সংস্থা TASS-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, সদস্য দেশগুলির সমর্থন আদায়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার শক্তিশালী সমর্থন পাওয়ার জন্য ইসলামাবাদ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও রাশিয়া ও চিনের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে, তবুও ভারতের প্রবল আপত্তির কারণে পাকিস্তানের দরজা এখনও বন্ধই রয়েছে। ব্রিকসের নিয়মানুযায়ী সর্বসম্মতির শর্ত থাকায় নয়াদিল্লির এই অবস্থানই ইসলামাবাদের স্বপ্ন পূরণে প্রধান প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে।