ভারত ছাড়ছেন না বিদেশি বিনিয়োগকারীরা! ২.৮ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নিয়ে আইপিও-তে বিশাল লগ্নি কোন কৌশলে?

ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে চলতি বছর প্রায় ২.৮ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বা এফআইআই। এই বিশাল অঙ্কের পুঁজি তুলে নেওয়ার ঘটনা দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছেন যে বিদেশি তহবিলগুলো বোধহয় ভারত ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কিন্তু পরিসংখ্যানের অন্য পিঠে লুকিয়ে রয়েছে এক আকর্ষণীয় গল্প। পুরোনো ও চড়া দামের শেয়ার থেকে টাকা তুলে নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখন তাদের পুরো ফোকাস সরিয়ে এনেছেন নতুন আইপিও বা প্রাথমিক শেয়ারবাজারের দিকে।

পুরোনো কোম্পানি থেকে কেন মুখ ফেরাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা?

দীর্ঘদিন ধরে যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ও খাতের ওপর বিদেশি বিনিয়োগের ভরসা ছিল, বর্তমানে সেগুলোর প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আর্থিক পরিষেবা, অটোমোবাইল, তেল, গ্যাস এবং আইটি খাতের শেয়ারগুলোকে এখন অতিরিক্ত দামি মনে করছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। শুধুমাত্র ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যেই কেবল আর্থিক খাত থেকেই ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি তুলে নেওয়া হয়েছে। স্যামকো সিকিউরিটিজের ইক্যুইটি রিসার্চ অ্যানালিস্ট রাজ গাইকার জানিয়েছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারত ছাড়ছেন না, বরং তারা বিনিয়োগের কৌশল বা ধরন বদলে ফেলেছেন। এর প্রমাণ মিল$ গত বছরের পরিসংখ্যানেও—যেখানে ২০২৪ সালে ১.২১ লক্ষ কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালে ৭৪,০০০ কোটি টাকা আইপিও-তে খাটানো হয়েছিল।

আইপিও-তে কেন এত আগ্রহ?

খোলা বাজার থেকে সরাসরি বড় অঙ্কের শেয়ার কিনতে গেলে পণ্যের দাম আকস্মিক বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু আইপিও বা প্রাথমিক বাজারে অ্যাঙ্কর কোটার মাধ্যমে একবারে বিপুল পরিমাণ শেয়ার সহজে এবং নির্দিষ্ট মূল্যে কিনে নেওয়া যায়। আনন্দ রাঠি শেয়ার্স-এর সহযোগী পরিচালক তানভি কাঞ্চন ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই প্রক্রিয়ায় বাজারের দৈনন্দিন ওঠানামা সরাসরি বড় ক্রয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে না।

বর্তমানে ভারতের প্রাইমারি মার্কেট বেশ জমজমাট। সেবি-র কাছে প্রায় ৪.৭ লক্ষ কোটি টাকার আইপিও-র দীর্ঘ তালিকা জমা রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে জিও প্ল্যাটফর্মস, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ফোনপে-র মতো दिग्गज সংস্থাগুলোর আইপিও বাজারে আসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্যাঙ্কিং বা আইটি খাতের পাশাপাশি এখন ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, কনজিউমার টেক এবং নবায়নযোগ্য শক্তির মতো উদীয়মান খাতগুলোতেও বিনিয়োগের সুবর্ণ সুযোগ খুঁজছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। আর এই নতুন ক্ষেত্রগুলোতে প্রবেশের সবচেয়ে সহজ চাবিকাঠি হলো আইপিও।