মমতাকে ‘জেতাতে’ চান খোদ ঋতব্রত! নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে কোন মারাত্মক রাজনৈতিক চাল চাললেন একদা সতীর্থ?

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দল কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। আর ঠিক এই পরিস্থিতিতেই আসন্ন নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে যেমন শ্লেষ মেশানো কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন, তেমনই ‘সমর্থনের’ আজব বার্তা শুনিয়ে দিলেন একদা সতীর্থ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সৌজন্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশল।

নন্দীগ্রামে মমতাকে ‘সমর্থন’ বনাম খোঁচা: ঋতব্রত শিবিরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ফের নন্দীগ্রাম থেকে উপনির্বাচনে প্রার্থী হন, তবে তাঁরা নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে তাঁকেই সমর্থন করবেন। কিন্তু এই সমর্থনের নেপথ্যেই রয়েছে তীব্র কটাক্ষ। ঋতব্রত স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, সাধারণ নির্বাচনে মমতার জয়ের কোনো বড় রেকর্ড নেই, বরং তাঁর জয় সবসময় উপনির্বাচনেই এসেছে। এমনকি নিজের বুথ, পাড়া ও বিধানসভায় মমতার পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনেও কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতাকে সরাসরি লড়াইয়ে নামতে বাধ্য করা এবং তাঁর পুরনো পরাজয়ের ইতিহাসকে সামনে এনে প্রচারের আলো নিজেদের দিকে টানাই এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য।

দিল্লিতে আসল তৃণমূলের লড়াই: নন্দীগ্রামের ভোটের পাশাপাশি সমান্তরালভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিল্লির রাজনৈতিক ময়দান। দলের প্রতীক এবং ‘আসল তৃণমূল’ কারা, সেই ফয়সালার জন্য শনিবার নির্বাচন কমিশনের দরজায় মুখোমুখি হচ্ছে দুই শিবির। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতীক নিয়ে জট না কাটলে নন্দীগ্রামসহ দুই উপনির্বাচনে প্রার্থীদের নির্দল পরিচয়ে লড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে এক বিরাট লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।