বিশ্বাস ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিলেন জনপ্রিয় গায়ক! সলমন খানের রিয়ালিটি শোতে এসে পুরনো ক্ষতে সলতে পাকালেন খোদ অভিনেত্রী!

জনপ্রিয় র‍্যাপার ও গায়ক বাদশার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গত বছর থেকেই নেটদুনিয়ায় চর্চার অন্ত ছিল না। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে যখন অভিনেত্রী ইশা রিখির সঙ্গে তাঁর বিয়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন অনুরাগীদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়েছিল তুঙ্গে। কিন্তু সেই সুখবর বেশিদিন টেকেনি; বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় এই তারকা দম্পতি আচমকাই তাঁদের পারস্পরিক বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন। বর্তমান সময়ে ইশা রিখি সলমন খানের জনপ্রিয় বিতর্কিত রিয়ালিটি শো ‘বিগ বস ২০’-এর ঘরের একজন অন্যতম প্রতিযোগী হিসেবে অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে খেলছেন। আর ঠিক এই শোয়েরই সম্প্রতি সম্প্রচারিত একটি বিশেষ পর্বে ইশা সরাসরি বাদশার নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর পানে ছুঁড়ে দিয়েছেন একের পর এক গুরুতর তীর, যেখানে উঠে এসেছে জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক ‘রেড ফ্ল্যাগ’ এবং বৈবাহিক সম্পর্কের পবিত্রতা নষ্ট করার মতো প্রতারণার প্রসঙ্গ।

বিগ বসের ঘরের অন্দরে চলা একটি খোলামেলা কথোপকথনের সময়, অন্য এক প্রতিযোগী যখন গুল্লু নামের এক ব্যক্তিকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ অর্থাৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর ও অনুপযুক্ত মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করেন, তখন প্রতিপ্রশ্নে গুল্লু জানতে চান যে তাঁরা এর আগে এমন নিখুঁত কোনো ‘রেড ফ্ল্যাগ’ দেখেছেন কি না। ঠিক সেই মুহূর্তেই তড়িৎ গতিতে জবাব দিয়ে ইশা রিখি সকলের নজর কেড়ে বলেন, “আমার ব্যক্তিগত জীবনে আমি আমার দেখা সেরা এবং সবচেয়ে বড় ‘রেড ফ্ল্যাগ’ দেখেছি!” যদিও নিজের মুখ থেকে কথাটি বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তিনি তড়িঘড়ি যোগ করেন যে তিনি তাঁর প্রাক্তন ব্যক্তিগত জীবনের কথা বলছেন না, তবুও বাড়ির অন্যান্য সহ-প্রতিযোগীরা তাঁকে নিয়ে শুরু করেন হাসিঠাট্টা। লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে ইশা সঙ্গে সঙ্গে সেই বিতর্কিত স্থান ছেড়ে উঠে চলে যান।

এরপর শোয়ের অন্দরে উপস্থিত পুরুষ প্রতিযোগীদের উদ্দেশে ইশা সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন যে, যারা সম্পর্কের সাথে প্রতারণা বা চিটিং করে, তাদের ক্ষেত্রে কি ব্রেকথ্রু বা সম্পর্ক থেকে চিরতরে বেরিয়ে আসার কোনো সুযোগ থাকে না? তিনি জানতে চান, যারা সাধারণত প্লেবয় প্রকৃতির হয়, তারা কি নিজেদের কৃতকর্মের জন্য পরবর্তীতে আদৌ কোনো অপরাধবোধ বা অনুশোচনায় ভোগে? এই প্রশ্নের জবাবে গুল্লু অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে মন্তব্য করেন যে, এটি পুরোপুরি নির্ভর করে ওই ব্যক্তি কার সাথে প্রতারণা করেছে তার ওপর। যদি সংশ্লিষ্ট মানুষটি তাঁর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেউ হয়ে থাকেন, তবে পুরুষটি যতই বাইরে থেকে উদাসীন থাকার মেকি ভান করুক না কেন, দিনের শেষে একান্তে বসে সে ঠিকই উপলব্ধি করে যে সে চরম ভুল করেছে এবং তার সেই ভুল শুধরে নেওয়া উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নির্দিষ্ট প্রমো ও ক্লিপটি ভাইরাল হতেই নেটপাড়ার সিংহভাগ নেটিজেন ও অনুরাগীরা মনে করছেন যে ইশা এই তির্যক মন্তব্যগুলির মাধ্যমে ঘুরিয়ে আদতে তাঁর প্রাক্তন স্বামী বাদশাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যে, তবে কি বাদশা তাঁদের সংক্ষিপ্ত দাম্পত্য জীবনে ইশার সাথে মারাত্মক কোনো প্রতারণা বা বিশ্বাসভঙ্গ করেছিলেন?

এর আগে ‘বিগ বস ২০’-এর জমজমাট প্রিমিয়ার প্রোমোতেও ইশা রিখি তাঁর এবং বাদশার বহুচর্চিত বিচ্ছেদ ও ভাঙা মন নিয়ে জনসমক্ষে খোলামেলা মুখ খুলেছিলেন। অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে তিনি সেসময় জানিয়েছিলেন যে, তিনি নিখাদ প্রেমে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন এবং মনে মনে ভেবেছিলেন যে তিনি বুঝি তাঁর কাঙ্ক্ষিত ও উপযুক্ত মানুষের সন্ধান পেয়ে গেছেন। বাদশাকে কেবল একটি ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ বা আদর্শ সঙ্গী হিসেবেই নয়, বরং তাঁর মতে তিনি ছিলেন আস্ত এক ‘গ্রিন ফরেস্ট’-এর মতো বিশাল ও ভরসার জায়গা। তিনি একজন সাধারণ নারীর মতো শান্তিতে বিয়ে করে ঘরকন্যানির্ভর একটি সংসারী জীবন কাটাতে চেয়েছিলেন, যার জন্য তিনি সাধ্যমতো সমস্ত রকম চেষ্টা ও আপসও করেছিলেন। কিন্তু জীবনের কিছু তিক্ত ও মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা মানুষকে আমূল বদলে দিতে বাধ্য করে। যখন দীর্ঘদিনের পরম বিশ্বাসের ভিত চুরমার হয়ে যায়, তখন মানুষের মনে এমন এক তীব্র হতাশার জন্ম নেয় যেখানে নিজের সিদ্ধান্তের ওপরই প্রশ্নচিহ্ন উঠে যায়—ভাবতে বাধ্য হতে হয় যে কোথায় বা ঠিক কোন জায়গায় ভুলটা হয়ে গিয়েছিল! ইশার অকপট স্বীকারোক্তি ছিল যে, অতীতে তিনি যা কিছুর মধ্য দিয়ে গেছেন, তা তাঁর ভেতরের কোমল সত্তাকে একেবারে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। তাই সেই অতীত যন্ত্রণার কথা তিনি আর নতুন করে খুঁচিয়ে বাড়াতে চান না। এমনকি তিনি টেরও পাননি কখন তাঁর নিজের জীবনের সুন্দর গল্পে তিনি নিজেই এক উপেক্ষিত ‘পার্শ্ব-চরিত্র’ হয়ে রয়ে গেছেন।

শোয়ের সঞ্চালক তথা মেগাস্টার সলমন খানের সাথে যখন ইশা প্রধান মঞ্চে প্রবেশ করেছিলেন, তখনো সলমন ইশাকে ইশারা করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, যাঁর নামের সাথে ইশার অতীত ও বর্তমান জড়িয়ে রয়েছে এবং যিনি তাঁকে নিয়ে আসার খবরের শিরোনামে ছিলেন, তিনি তো ইতিমধ্যে নিজের মতো করে জীবন গুছিয়ে বহু দূর ‘মুভ অন’ করে চলে গেছেন। তাই সলমন ইশাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি যেন অকারণে তাঁর নাম টেনে পরিস্থিতি জটিল না করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও, জীবনের সবচেয়ে নির্মম ও কঠিন সত্যগুলি বিগ বসের ঘরের চৌহদ্দিতে মাঝেমধ্যেই অজান্তেই হোক কিংবা তীব্র আবেগের বশে প্রকাশ্যে এনে ফেলছেন এই পাঞ্জাবি অভিনেত্রী।

প্রসঙ্গত, জনপ্রিয় র‍্যাপার বাদশা এবং সুন্দরী পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের প্রেমের সম্পর্কটিকে অত্যন্ত সুকৌশলে সংবাদমাধ্যম ও লোকচক্ষুর আড়ালে বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু চলতি বছরেই হঠাৎ করে তাঁদের গোপনে সেরে ফেলা বিয়ের খবর জনসমক্ষে প্রকাশ পায়। ইশার মা যখন তাঁদের অত্যন্ত ঘরোয়া ও সংক্ষিপ্ত বিয়ের অনুষ্ঠানের কিছু মিষ্টি মুহূর্তের ছবি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন, তখন তা মুহূর্তে ইন্টারনেটে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে অনুরাগীদের প্রবল কৌতূহলের জেরে ইনস্টাগ্রামে আয়োজিত একটি ‘আস্ক মি এনিথিং’ (Ask Me Anything) লাইভ সেশনে ইশা নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন যে তিনি বাদশাকে বিয়ে করেছেন এবং তাঁকে তাঁর বৈধ স্বামী হিসেবেও স্বীকৃতি দেন। তবে দুঃখের বিষয় হলো, তাঁদের এই রাজকীয় প্রেমের পরিণতি অত্যন্ত স্বল্পস্থায়ী প্রমাণিত হয়।

বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মাথাতেই এই তারকা দম্পতি তাঁদের সুপ্ত মতপার্থক্য ও ব্যক্তিগত দূরত্বের কথা স্বীকার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে পারস্পরিক বিচ্ছেদের ঘোষণা করেন। সেসময় তাঁরা অত্যন্ত পরিপক্বতার সাথে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের নিঃশব্দতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছিলেন ভক্তদের কাছে। সেসময় বাদশা তাঁর অফিশিয়াল বিবৃতিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লিখেছিলেন, “ইশা রিখি এবং আমি অত্যন্ত পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার এবং নিজ নিজ জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের এই বিচ্ছেদ সম্পূর্ণভাবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে এবং আমরা সমস্ত অনুরাগ ও গণমাধ্যমের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যেন এই কঠিন সময়ে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তাকে যথাযথ সম্মান প্রদান করা হয়।”