রাতভর অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে ধসে গেল দুধিয়ার সেতু! শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগ নিয়ে বড় আপডেট

পাহাড় থেকে সমতল—উত্তরবঙ্গজুড়ে রাতভর তাণ্ডব চালিয়েছে অবিশ্রান্ত বৃষ্টি। প্রকৃতির এই অনিয়ন্ত্রিত রূপ এবং অতি ভারী বর্ষণের জেরে উত্তরের প্রায় সব নদনদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে এক ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। পাহাড়ি অঞ্চলের নদীগুলির মধ্যে তিস্তা এবং বালাসন নদীর জলস্তর বৃদ্ধির গতি ও স্রোতের তীব্রতা সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত করে তুলেছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার ধারণ করেছে যে, নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে থমকে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরবঙ্গের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে লাগাতার এবং প্রবল বর্ষণ, যার ফলে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসা জলের তোড়ে ভেসে গেছে বহু এলাকা। পাহাড়ি নদী বালাসনের তীব্র স্রোত এবং লাগাতার ধসের ধাক্কায় মিরিক এবং শিলিগুড়ির সংযোগকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দুধিয়ায় নির্মিত অস্থায়ী হিউম পাইপ সেতুর একটি বড় অংশ সম্পূর্ণভাবে ধসে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। সেতুর এই করুণ দশা এবং আকস্মিক ধসের কারণে শিলিগুড়ি থেকে মিরিকগামী সরাসরি যোগাযোগের পথ আজ এক বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রতিদিন যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রী, পর্যটক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন, কারণ এই রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে সকলকে।

তবে এই চরম সংকটময় পরিস্থিতিতেও কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ। কারণ, সামগ্রিক বিপর্যয়ের মধ্যেও পরিস্থিতি সামাল দিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে ভারতীয় সেনার ত্রিশক্তি কর্পসের নির্মিত বেইলি ব্রিজটি। পাহাড়ি নদীর তীব্র স্রোত এবং প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে এই বেইলি ব্রিজটি এখনও সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। সেনার এই সুদৃঢ় পরিকাঠামো এবং সময়োপযোগী নির্মাণ কাজ এককথায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ মূল্যায়ন করে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বেইলি ব্রিজটিই উত্তরবঙ্গবাসীর যাতায়াত ও যোগাযোগের একমাত্র প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।